এক নামি পত্রিকায় প্রকাশিত খবর দেখে শুরু হয়েছে হৈচৈ। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামি সহ চারটি দল কয়েকদফা দাবি নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনে নামছে। তাদের দাবিগুলি হল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংখ্যানুপাতিক অর্থাৎ পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ভোটের জন্য সবার সমান সুযোগ তৈরি করা, ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের জোটের শরিকদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
হাওয়া গরম করার মতো খবর হলে হাওয়া তো গরম হবেই। বিএনপি, আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটেছে, এবার সেই পথেই হাঁটছে এনসিপি। এই নিয়ে চলল আলোচনা-সমালোচনা। আচমকাই এনসিপি ঘোষণা করল, তারা যুগপৎ আন্দোলনে যাচ্ছে না। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের নির্বাচন। কিন্তু তার এই ঘোষণায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বিশ্বাস করতে চাইছেন না। যদিও রাজনীতিতে কত কিছুই না ঘটে।
একসময়ের শত্রু জামায়াতের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখা যায় আওয়ামী লীগকে। এখন প্রশ্ন হল এনসিপি কি জোট করে যুগপৎ আন্দোলনে নামতে পারে? ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে এনসিপির ছাত্র সংগঠনের। এমন ফলাফল হবে এটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি দ্রুত গতিতে হারিয়ে যেতে পারে। সেটা আশঙ্কা করেই কাপা জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুগপৎ আন্দোলনে যেতে পারে এনসিপি? এই প্রসঙ্গে বিবিসি নিউজের সম্পাদক লোটন একরাম বলেন, এনসিপি যদি বিএনপির সঙ্গে জোট করে ফেলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আবার যারা জামাতে নিজের নাম লিখিয়েছে, আগামীদিনে তারা বিএনপিতে যাবে না, সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এই জোটগুলির উদ্দেশ্য আসলে বড় দলগুলির ওপর চাপ তৈরি করে নির্বাচনী ফায়দা আদায় করা। অনেকে বলছে, এনসিপি আসলে জামায়াতের একটি পার্ট বা মিত্র। তাই, তারা একসঙ্গে মিলে রাজনীতি করতেই পারে। তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এখন বড় প্রশ্ন হল, এমন আন্দোলন নিয়ে কেন চর্চা শুরু হল? উদ্দেশ্য কি ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচাল করা।
এদিকে আবার প্যাঁচ লেগে গিয়েছে। বাতাসে ভাসছে বিএনপি নাকি ইচ্ছা করে ডাকসুতে শিবিরের কাছে হেরেছে. যাতে ফেব্রুয়ারির ভোটে জামায়া আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। সেটা হলে বিএনপি তরতর করে ক্ষমতায় বসতে পারে। জামায়াত নেতা মতিউর রহমান বলে উঠলেন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হচ্ছেই। কোনও বিকল্প নেই।
সে সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে চর্চা। এই আন্দোলন কাদের বিরুদ্ধে, তা কিন্তু এখনও স্পষ্ট নয়। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সেই আটদল আবার বিভ্রান্ত। কোনও কোনও দলের নেতা বলেছেন, সেটা এখনও বলার সময় আসেনি। জামায়াত কিন্তু চুপ করে রয়েছে। নীরবতা কি সমর্থনের অন্যরূপ? উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, জামায়াতের আরও একটি প্রক্সিদল বাংলাদেশে দরকার নেই। এখনকার যুগপৎ আন্দোলনের লক্ষ্য কী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তো কয়েক মাসের জন্য। তাহলে কী প্রতিপক্ষ বিএনপি এবং মধ্যদলগুলি? এতে লাভ কার, ক্ষতিই বা কার? লাভ জামায়াতের। তারা সরাসরি ক্ষমতায় চলে যাওয়ার সুযোগ পাবে। ছাত্র ভোটে শিবিরের জয় তাদের বিরাট প্রাপ্তি। এই জয়কে হাতিয়ার করে তারা এবার জাতীয় রাজনীতিতে নামতে চাইছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post