সেই সেপ্টেম্বর।
গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে গিয়ে চূড়ান্ত বেইজ্জত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। সেখানের যে হোটেলে তিনি উঠেছিলেন, সেই হোটেলের সামনে কয়েকশো মানুষ বিক্ষোভ দেখান। স্লোগান দেন, গো ব্যাক।
আবার সেই সেপ্টেম্বরেই তাকে জাতিসঙ্ঘের ভাষণ দিতে নিউ ইয়র্কে যেতে হচ্ছে। বিদেশের মাটিতে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়তে হয়ে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে। ইউনূসের কোনও ইচ্ছা নেই এই রকম কোনও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার। তাহলে জাতিসঙ্ঘে তাঁর মান-সম্মান সব যাবে। তাই, দেহরক্ষী নিয়ে এবার নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ে মাহফুজ আলমকে নিয়ে কম চর্চা হয়নি। রাত একটা পর্যন্ত মাহফুজ আলম নিউ ইয়র্কে তাদের দূতাবাসে আটকে ছিলেন। এই ঘটনায় সরকারের হৃৎকম্পন শুরু হয়ে যায়। কারণ, ঘটনাটি বাংলাদেশে ঘটলে না হয় কথা ছিল। হয়েছে কয়েক লক্ষ যোজন দূরে আমেরিকায়। তাতেই ঘুম উড়ে গিয়েছে মহম্মদ ইউনূসের। তদারকি সরকারের প্রধান রীতিমতো ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন।
মাহফুজ আলমের ঘটনায় সরকার রীতিমতো অস্বস্তিতে। খবরে প্রকাশ, মাহফুজ আলমকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয়েছিল। তাঁর গাড়ি ধাওয়া করা হয়েছিল। প্রাণ বাঁচাতে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঢুকে পড়েন। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। বাইরে তখন তুমুল বিক্ষোভ। রাত একটা পর্যন্ত কান-মাথা ঢেকে বসেছিলেন মাহফুজ। এই প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তাজা একসময় এই ঘটনা নিয়ে বেশ হম্বি-তম্বি করেছিলেন। তাকে বলতে শোনা যায়, মেরেছে। তবে মাহফুজ আলমকে মারধর করেনি। মাহফুজ আলমের গাড়ি অন্যদিকে দিয়ে ঢুকেছিল। একই রেকর্ড শোনা যায় লন্ডনের ঘটনার পরেও। মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত আনসারি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দূতাবাসকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ক্ষেত্রে তাঁর তরফে যতরকম সাহায্য করার হবে তিনি সেটা করবেন। যে কোনও দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে বাধ্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এসব চলতে পারে না।
এখন সাংবাদিকেরা পরাষ্ট্র উপদেষ্টা যখন তৌহিদ হোসেনকে এই নিয়ে প্রশ্ন করছেন, তখন তিনি বলেন, লন্ডনের ঘটনা পুরোপুরি সত্য নয়। ডিম ছোঁড়া হয়েছিল ঠিক। তবে মাহফুজের গাড়ি লক্ষ্য করে নয়। এখানে আমাদের বুঝতে হবে পশ্চিমের দেশগুলিতে স্লোগান, বিক্ষোভ বন্ধ করার কোনও হাতিয়ার ওই সব দেশের সরকারের নেই। সরকার এই সব করতে দিতে বাধ্য। শুধু প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকটা সংশ্লিষ্ট সরকারের দেখা উচিত। পুলিশ বিস্তর অভিজ্ঞ। আশা করছি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।
মানে সব কিছু পরম করুণাময় আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তৌহিদ হোসেন। ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কিই বা রাস্তা তার সামনে খোলা থাকতে পারে। তিনি মনে মনে আশা করছেন ডিম পড়ে পড়ুক। তবে মহম্মদ ইউনূস বা তার সঙ্গে যাঁরা যাচ্ছেন, তাদের গাড়িতে না পড়লেই হল। গালি শুনতে হলেও কিছু করার নেই। গালি শুনতে শুনতে জাতিসঙ্ঘের পিছনের দরজা দিয়ে কোনওরকমে ঢুকে পড়লেই হল। তারপর ভিতরে গিয়ে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেবেন।
মুশকিল হল, সেই বক্তৃতা তো সরাসরি সম্প্রচার হবে। আলটপকা কিছু বললে বিপদ আরও বাড়বে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ফলে, খুব বুঝেশুনে ইউনূসকে কথা বলতে হবে। সেটা বলেও যে খুব একটা লাভবান তিনি হবেন, এমনটা ভূতেও বিশ্বাস করতে চাইছে না।












Discussion about this post