ক্ষণে ক্ষণে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেখানে মাসখানেক ধরে ভারত ও নরেন্দ্র মোদি বিরোধী নানান মন্তব্য করে নয়া দিল্লিকে বিব্রত করে আসছিলেন। তিনিই আচমকা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে এখন মোদি বন্দনায় মেতেছেন। এমনকি বুধবার নরেন্দ্র মোদির ৭৫ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিন আগেই ফোন করে মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বসলেন। ভাবখানা এমন, এই দ্যাখো বন্ধু আমি সবার আগে তোমাকে উইশ করলাম। এবার অন্তত বাণিজ্যচুক্তিটা সেরে ফেলো। আবার দেখা যাচ্ছে, সেই বাংলাদেশেই মার্কিন সেনার একটা বড় দল পাঠিয়ে যৌথ মহড়ার নামে একটা ভীতির পরিবেশ তৈরি করছে ওয়াশিংটন।
কিসের ভীতি?
বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে মার্কিন সেনার সুপার হারকিউলিস সামরিক পরিবহণ বিমান। যাতে করে সাধারণত ভারী সরঞ্জাম ও বিশাল সেনা জওয়ানদের পরিবহন করা হয়। মহড়ায় এই বিমানের উপস্থিতি কেন? ভূ-রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহড়ার নামে বাংলাদেশে বড় কোনও পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করছে ইউএস আর্মি। সেটা যেমন, আরাকান আর্মিকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করা হতে পারে, তেমনই আবার সেন্ট মার্টিন বা কক্সবাজারে মার্কিন ঘাঁটি তৈরি করতে পারে তাঁরা। কেউ কেউ আবার এও দাবি করছেন, যে বাংলাদেশে মার্কিন ঘাঁটি নির্মান প্রায় সম্পূর্ণ করে ফেলেছে মার্কিন সেনা।
ঠিক এই আবহেই ভারতীয় সেনাবাহিনী কলকাতায় আয়োজোন করল‘যৌথ সেনাপতি সম্মেলন ২০২৫’। এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উপস্থিত ছিলেন, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-সহ ভারতীয় সেনার সমস্ত উচ্চপদস্থ কর্তাই। জানা যাচ্ছে, কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে আয়োজিত ওই সেনা সম্মেলনে ভারতের স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার জন্য একটি অভিন্ন ‘এডুকেশন কোর’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই অভিন্ন ‘এডুকেশন কোর’-এর অধীনে তিনটি সংযুক্ত সামরিক কেন্দ্র বা জয়েন্ট মিলিটারি স্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ভারতীয় স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার দেশ জুড়ে পৃথক পৃথক কমান্ড রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল, ‘থিয়েটারাইজ়েশন’ পদ্ধতির মাধ্যমে তিন বাহিনীর ভিন্ন ভিন্ন কমান্ডের পরিবর্তে অভিন্ন ‘থিয়েটার কমান্ড’ গঠন করা।
ভারত ধীরে ধীরে সামরিক দিক থেকে আত্মনির্ভর হতে শুরু করেছে। এতে চিনের যত না মাথাব্যাথা, তার চেয়েও বেশি মাথাব্যাথা যুক্তরাষ্ট্রের। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের পররাষ্ট্র নীতি তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদের ভিত্তিতে। তাঁরা জানে, ভবিষ্যতে ভারত একটা সুপার জায়ান্ট হতে চলেছে, এবং চিন ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলবে। অর্থনীতি এবং সামরিক সক্ষমতায় ভারত ইতিমধ্যেই চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। তাই ভারতের নাকের ডগায় সামরিক ঘাঁটি তৈরিতে মরিয়া ওয়াশিংটন। ফলে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘনঘন সামরিক মহড়া। এতে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইউএস আর্মি। একদিকে পাকিস্তান, অন্যদিকে বাংলাদেশ, দুই দেশেই মার্কিন প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। এই আবহেই প্রশ্ন জাগছে, তাহলে কি ভারতকে আক্রমণ করতে পারে বাংলাদেশ? নাকি ভারত বাংলাদেশকে আক্রমণ করবে? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপারেশন সিঁদূর এখনও শেষ হয়নি, স্থগিত হয়েছে মাত্র। এই আবহে বাংলাদেশে যে ভাবে জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়ছে, তাতে ইউনূসের দেশও স্বস্তিতে নেই। ফলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তারাষ্ট্রের সাহায্যে ভিতর ভিতর তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশ। এর জন্য দেশের একটা অংশ বিক্রিও করে দিতে রাজি মুহাম্মদ ইউনূস।












Discussion about this post