বাংলাদেশে ঢুকেই গেল আমেরিকার সেনা? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক যোগাযোগ আচমকাই বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা যাচ্ছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর ইউএস-বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে অবতরণ করেন মার্কিন সেনাবাহিনী এবং মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রায় ১২০ জন কর্মকর্তা। যারা চট্টগ্রামের একটি পাঁচতারা হোটেলে চেক ইন করেছেন। এও জানা যাচ্ছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর কোনও সদস্যেরই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া করানো হয়নি, এমনকি ওই হোটেলের রেজিস্টারেও কারও নাম-পরিচয় লেখা হয়নি। পুরোটাই হচ্ছে কূটনৈতিক চ্যালেনে এবং অতি গোপনে। তবে এটুকু জানা গিয়েছে, ওই হোটেলের ৮৫টি কক্ষ মার্কিন সামরিক কর্মীদের জন্য বুক করা হয়েছে। ফলে মার্কিন সেনার কোন কোন আধিকারিক বা সঠিক কতজন সেনা সদস্য এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, সেটা জানার কোনও উপায় নেই। প্রশ্ন উঠছে, কেন এত গোপনীয়তা? বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ এবং কূটনৈতিক মহলের একটা অংশ দাবি করছে, মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা হয়েই গিয়েছে। এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে তাঁদের সামরিক বেস তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান করা কয়েকটি সামরিক বিমানের ছবি বা ভিডিও শেয়ার করে ফেসবুকে কেউ কেউ লিখছেন, “তিনটা আমেরিকার যুদ্ধ বিমান চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টে, তাহলে কি আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রি হয়ে গেল! ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য মুহাম্মদ ইউনূস কি দেশ বিক্রি করে দিলেন? আবার চট্টগ্রামের ওই বিমানবন্দরে একটি মিশরীয় সামরিক বিমানও দেখা গিয়েছে। যার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর মঙ্গলবার ও বুধবার- পর পর দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সের অংশগ্রহণে সাত দিনব্যাপী ” অপারেশন প্যাসিফিক এঞ্জেল ২৫-৩ ” যৌথ মহড়া চলছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি দুই দেশের বিমানবাহিনীই যৌথ মহড়ায় অংশ নেয়, তাহলে কেন মার্কিন যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে সামরিক পরিবহন বিমান এল চট্টগ্রামে? মজার বিষয় হল, শেখ হাসিনার আমলেও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র এ ধরণের যৌথ সামরিক মহড়া করেছে। কিন্ত তার ধারাবাহিকতা ছিল খুবই কম। যেটা বিগত এক বছরে এতটাই বৃদ্ধি পয়েছে যে সকলের নজর টানছে। এই মুহূর্তে চট্টগ্রামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা যে মহড়া দিচ্ছে, তা হল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কোনও মুমুর্ষ আহতকে দ্রুত উদ্ধার করে হেলিকপ্টার ও সামরিক বিমানে দূরবর্তী স্থানে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো যায় সেগুলিই হাতে কলমে করা হল।
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, হাতির দাঁত খাওয়ার জন্য একটা, দেখানোর জন্য একটা। অর্থাৎ, যেটা দেখানো হচ্ছে, সেটা আসল নয়। এই ঘনঘন মার্কিন সেনার চট্টগ্রাম অঞ্চলেই প্রবেশের পিছনে আছে অন্য কারণ। চট্টগ্রাম ভৌগলিকভাবেই মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের একেবারে নাকের ডগায়। আবার চট্টগ্রাম থেকে খুব সামান্য দূরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। তাই যে মহড়া ঢাকা বা লালমণিরহাটে হতে পারতো, সেটা কেবলমাত্র চট্টগ্রামেই চলছে। বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি তৈরি এবং রাখাইনে আরাকান আর্মির হাতে অস্ত্রশস্ত্র, সাজসরঞ্জাম এবং রসদ তুলে দিতে হলে এই চট্টগ্রামই সবচেয়ে ভালো জায়গা। সেই কারণেই দুটি সি-১৩০জে হারকিউলিস মার্কিন সামরিক পরিবহণ বিমান এবং একটি এমআই – ১৭ হেলিকপ্টার অবতরণ করেছে চট্টগ্রামে। এছাড়া মিশরীয় বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০এইচ হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানও দেখা গিয়েছে। এই বিমানগুলিতে যেমন আরাকান আর্মির জন্য অস্ত্রশস্ত্র ও রসদ রয়েছে, তেমনই মার্কিন বেস স্টেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো রয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ঠিকই প্রশ্ন তুলছেন, যে মুহাম্মদ ইউনূস নিজের পিঠ বাঁচাতে এবং সুবিধা নিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বাজি রেখে সেন্ট মার্টিন বিক্রি করে দিলেন। কিন্তু এর ফল আগামীদিনে কি হবে, সেটা আফগানিস্তান বা কাতারের হাল দেখলেই বোঝা যাবে।












Discussion about this post