গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারতের পড়শি দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আর আগের মতো সুমধুর নয়। বরং এই সম্পর্ক দিন দিন তলানিতে এসে ঠেকেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে চট্টগ্রামে এসে ঘাঁটি গেড়েছে মার্কিন সেনা। মহড়ার নামে সেখানে গোপনীয় অনেক কিছুই হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবর। এটা যেমন ভারতের মাথাব্যাথার কারণ, তার থেকেও বড় মাথাব্যাথা হল বাংলাদেশে দ্রুত ইসলামিক কট্টরপন্থীদের উত্থান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ব্রাত্য করে দেওয়ার পর এবার টার্গেট বিএনপি। মাইনাস-টু ফর্মুলায় এগোচ্ছে জামাত শিবির। সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নির্বাচনে জামাতের বিপুল জয় বড্ড চিন্তায় ফেলেছে ভারতকে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে যে হাসিনার দলকে কোনও ভাবেই অংশ নিতে দেওয়া হবে না, এটা কার্যত নিশ্চিত। অন্যদিকে কোনঠাসা বাংলাদেশের আরেক বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিও। আর এই অন্তর্বর্তী সরকারের অদৃশ্য চালিকাশক্তি জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি ছড়ি ঘোরাচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর। দেশের আভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত এথন কার্যত জামাতের শীর্ষ নেতারাই নিয়ে থাকেন। এই পরিস্থিতি আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারছেন না দিল্লির কর্তারা।
বাংলাদেশে যত ইসলামিক কট্টরপন্থীদের উত্থান হবে, ততই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। চট্টগ্রামে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে যত না মাথাব্যাথা, তার থেকেও বেশি চিন্তার কারণ, পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে জামাতের আঁতাত। কারণ, জামাত বরাবরই পাকিস্তানের কথায় ওঠবোস করে। আর তাঁদের যে ভাবে উত্থান হচ্ছে, তাতে আসন্ন নির্বাচনে জামাত শিবির বড় সাফল্য পাওয়ার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে ফেলেছে। আর নির্বাচনের পর যদি বাংলাদেশের স্থায়ী সরকারের চালিকাশক্তি জামায়তে ইসলামী হয়, তাহলে ভারতকে সেটা নিয়ে ভাবতেই হবে। সূত্রের খবর, সেটা ভাবতেও শুরু করেছে নয়া দিল্লি। সম্প্রতি কলকাতায় বসেছিল বড়সড় এক সামরিক সম্মেলন। কলকাতা হল ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের হেড কোয়ার্টার। এই কমান্ডের আওতায় চিন, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার রয়েছে। একমাত্র ভুটানকে বাদ দিলে এই মুহূর্তে প্রত্যেকটি দেশই ভারতের জন্য বিপজ্জনক। দিল্লির অন্দরমহলে কানাঘুঁষো চলছে, বড় কিছু পরিকল্পনা হয়ে গিয়েছে। এবার ইস্টার্ন কমান্ড দিল্লির গ্রীন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছে।
মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশে জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনূস সরকার ক্ষমতায় এসেই কয়েকজন শীর্ষ জঙ্গিনেতাকে যেমন জেলমু্ক্তি দিয়েছে, তেমনই জেল পালানো সাতশোর বেশি জঙ্গিকে খোঁজার চেষ্টাও করেনি। বোঝাই যাচ্ছে, এটা একটা বড় পরিকল্পনা। ভারত, প্রথম থেকেই এই বিষয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে সাবধান করে আসছে। কিন্তু বিগত এক বছরে কোনও বড় পদক্ষেপ করেনি মোদি সরকার। কিন্তু অপারেশ সিঁদূরের মাধ্যমে বাংলাদেশকেও বড়় বার্তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইউনূস কোনও কিছুই পাত্তা দিচ্ছেন না। এটা যথেষ্ট ভাবিয়েছে নয়া দিল্লিকে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সক্রিয় বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন। যেমন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, যারা আল কায়দার শাখা সংগঠন। আছে জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি। হিজবুত তেহরী, যারা খিলাফৎ চেয়ে ঢাকার রাস্তায় অবাধে মিছিল করেছে, আইসিসের পতাকা উড়িয়েছে। এছাড়া আছে, লস্কর-ই-তৈবা বা জৈশ-ই-মহম্মদের মতো পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলি। তাঁরাও বাংলাদেশে তাঁদের শাখা বিস্তার করেছে। এই সংগঠগুলি যে ভারতের সীমান্তবর্তী অসম ও পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় তা গোয়েন্দারা ভালোই টের পাচ্ছেন। এমনকি অসম ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ যৌথভাবে বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেফতারও করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ নিয়েই চিন্তা বেশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির। কারণ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বীরভূম-সহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় কট্টরপন্থী সংগঠনগুলির বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত বড় কোনও পদক্ষেপ বা অপারেশ সিঁদূরের মতো কোনও সামরিক অভিযান করার পরিকল্পনা করছে বলেই কানাঘুঁষো। কোনও কোনও মহল এমনটাও দাবি করছেন, পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশও তিন টুকরো হয়ে যেতে পারে। আর এটা হলে অবাক হওয়ার কোনও কারণ নেই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post