বিজ্ঞানীর হাত থেকে ফুল উপহার পাওয়ার পর হীরক রাজা কী বলেছিলেন মনে পড়ে – বটে, এতো বুদ্ধি তোমার ঘটে।
বাংলাদেশের একটি ঘটনার উত্থাপন করতে গেলে ওই সংলাপের উল্লেখ করতে হয় – বাংলাদেশে কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে যেখানে শেষ সেখান থেকে মহেশখালি খুব কাছেই। এত কাছে যে দূরবীন দিয়ে দেখার প্রয়োজন হয় না। দূরত্ব চার কিলোমিটারও নয়। হঠাৎ এই প্রসঙ্গ ওঠার কারণ, বাংলাদেশে সম্প্রতি মিশর থেকে একটি বিশাল আকারের যুদ্ধজাহাজ এসেছে। সরকারিভাবে ঢাকা এই নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই যুদ্ধজাহাজে করে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র আমদানি করা হয়েছে। চিনের মোকাবিলা করতে মহেশখালিতে গোপনে পারমাণবিক কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। উল্লেখ করার মতো বিষয় হল, বর্তমানে সে দেশে চলছে মার্কিন সেনার সঙ্গে যৌথ মহড়া। ভারতের সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, ওটা আসলে আইওয়াশ। ভারত-চিন বা ডিপ স্টেটের নজর যাতে মহেশখালির দিকে না পড়ে, সেটা করতেই ওই সেনামহড়া।
মহেশখালির একটা বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে ম্যানগ্রোভ। ফলে, ওই এলাকা না সামরিক কাজে আসবে, না বেসামরিক কাজে আসবে। কিন্তু এত বড় এলাকা তো আর খালি পড়ে থাকতে দেওয়া যায় না। তাই, মহেশখালিকে অন্যকাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। ম্যানগ্রোভ জঙ্গলগুলি কিন্তু তাদের আড়াল করার মোক্ষম অস্ত্র। ২০২৩-য়ের ২০ মার্চ কক্সবাজারের পেকুয়ায় প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি স্থাপনের মাধ্যমে দেশের সামরিক ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নৌবাহিনীর প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি ‘বিএনএস শেখ হাসিনা’-এর কমিশনিং অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুমান চিন বাংলাদেশের এই গোপন পরিকল্পনার খবর পেয়েছে। তারা সে দেশের পিএসও (প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার এস এম কামরুল হাসানকে ডেকে পাঠিয়েছে। এই সব ঘটনা উস্কে দিচ্ছে সম্প্রতি ঢাকার একটি হোটেলে মার্কিন সেনার অস্বাভাবিক মৃত্যু। ঢাকার একটি হোটেলের ঘর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল, দেহ ময়নাতদন্ত না করেই আমেরিকা তাঁর দেহ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। অনেকের অনুমান, ওই সেনাকর্তা এমন গোপন খবর পেয়েছিলেন, যা ফাঁস হলে আমেরিকা ভয়ঙ্কর বিপদে পড়ত। তাই, আগে থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। আরও বেশি করে যেটা নজর কাড়ছে, তা হল মার্কিন সেনা বা মার্কিন বিদেশ দফতর থেকে এই মৃত্যু নিয়ে একটি বিবৃতিও দেওয়া হয়নি। কেন এত গোপনীয়তা, তা নিয়ে নানা প্রান্ত থেকে প্রশ্ন উঠলেও আমেরিকা কিন্তু একটি শব্দ খরচ করেনি। কোনও হৈচৈ না করে একেবারে চুপিসারে তার দেহ আমেরিকা ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, ওই মার্কিন সেনা কী বাংলাদেশের মহেশখালির বিষয়ে আগাম জানতে পেরেছিলেন? মহেশখালি নিয়ে ঢাকার পরিকল্পনা কী সেটা আগাম জানতে পেরে যান ওই মার্কিন সেনা। সেটা যাতে পাঁচকান না হয়, তাই তাকে সরিয়ে ফেলাই সব থেকে সুরক্ষিত রাস্তা বলে মার্কিন সেনার মনে হয়েছে। মহেশখালিতে এত বড় একটা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, অথচ বাংলাদেশের কোনও সংবাদপত্রে এই নিয়ে একটি শব্দও খরচ করা হয়নি। তাহলে কী বাংলাদেশের মিডিয়া এই বিষয়ে কিছুই জানে না? ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম তাদের এই ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করেছে। এই খবর লেখা পর্যন্ত ঢাকার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।












Discussion about this post