জন আমার, জমি আমার। তাকে কীভাবে রক্ষা করব, সে সিদ্ধান্ত আমার। তাতে বাংলাদেশ অসন্তুষ্ট। সেটা এতটাই যে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মহম্মদ ইউনূস এবং তার চ্যালাচামুন্ডাদের সে কথা বোঝাবে কে? আবোল-তাবোল বকলেই তো আর হল না। এর মধ্যে আবার দুই দেশের দুই হাইকমিশনারকে দুই সরকারের তরফ থেকে তলব করা হয়েছে। হঠাৎ কী এমন হল যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকতে হল? সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত দিল্লি নিয়েছে, তাতে আপত্তি রয়েছে ঢাকার। সেটা ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সমস্যা কোথায় একবার তাকিয়ে দেখা যায়। ভারতের মানচিত্র লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছেই বেশ কয়েকটি রাজ্য রয়েছে। সব থেকে বড় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। তারপরে অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম। এই সীমানার মোট দৈর্ঘ্য ৪০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গের দৈর্ঘ্য ২২১৭ কিলোমিটার। সব থেকে কম অসম, দৈর্ঘ্য ২৬২। ৪০৯৬ কিলোমিটারের মধ্যে ৩১৮০ কিলোমিটার জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া বসিয়ে দেওয়া হযেছে। মুক্ত রয়েছে ৯১৬ কিলোমিটার। এই অঞ্চল বেড়া দেওয়ার সময় হয়েছে। কেন ?
গত অগাস্টে হাসিনা ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর সে দেশে চূডা়ন্ত নৈরাজ্য তৈরি হয়। শুরু হয় সংখ্যালঘু নির্যাতন। সেই সঙ্গে শুরু হয় ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ। উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভারত সীমান্তে নজরদাড়ি আরও জোরদার করে। অন্যদিকে, যারা আতঙ্কে ভুগছিলেন এটা ভেবে যে মহম্মদ ইউনূস বাংলাদেশকে একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারে, তারা ভারত ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করে। বিজিবির সঙ্গে বৈঠকে বিএএস জানিয়ে দেয়, সীমান্তে কড়াকড়ি করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। ভবিষ্যতে মালদাতেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসবে। তাতে আপত্তি তুলেছে ইউনূস সরকার। জানিয়ে দিয়েছে ওই সব কাঁটাতার বসানো যাবে না।
ঢাকার দাবি, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পাঁচ জায়গায় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি লঙ্ঘন করে কাঁটাতার লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহম্মদ জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীর বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে চারটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল বাংলাদেশ। সেই মোতাবেক নো ম্যান্স ল্যান্ডের থেকে ১৫০ গজ ভিতরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যায়। কিন্তু ভারত তা করছে না।
সম্প্রতি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে বালুরঘাট ব্লকের ভাটপাড়া পঞ্চায়েতের শিবরামপুরে বিএসএফ-কে কাঁটাতারের দিতে বাধা দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। এই শিবরামপুর এলাকায় কয়েকশো মিটার উন্মুক্ত। সেখানে সীমান্তের পাশে একটি ভারতীয় গ্রাম রয়েছে। সেখানেও কাঁটাতার নেই। এই আবহে উন্মুক্ত সীমান্ত এবং সেই গ্রামের আশেপাশে কাঁটাতার দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিএসএফ। তবে সেই কাজ শুরু হতেই বাধা দেয় বিজিবি।
সীমান্তের কয়েকটি জায়গায় বিগত কয়েকদিন ধরে ভারত নিজেদের জমিতে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে। কিনন্তু সহ্য হচ্ছে না বাংলাদেশের। বিভিন্ন সময়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএসএফ এবং বিজিবি বৈঠকও করেছে। ওপারের বাধায় আমল না দিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে দিল্লি। আর তাতেই জ্বলুনি ধরেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে। তাই, তলব করা হয় ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মাকে। যদিও দিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্তের কোনও অংশ আর কোনওভাবেই উন্মুক্ত রাখা যাবে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more











Discussion about this post