নেটোর আদলে সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক চুক্তি সেরেছে পাকিস্তান। সেই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে আরও একাধিক দেশ। পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কথায় তেমনই ইঙ্গিত। এই জোটকেই ইসলামিক নেটো বলেও অনেকে আখ্যায়িত করতে শুরু করেছেন। আর এটা হলে দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি পাল্টে যাবে বলেও অনেকের দাবি। এর ফলে ভারত কতটা বিপদে পড়বে? এই প্রশ্নের উত্তরও খোঁজা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ মনে করছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতের সমস্যা হতে পারে। আরও দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে প্রবেশ করলে তা নয়াদিল্লির উদ্বেগের কারণ হবে। রাহুল গান্ধির কংগ্রেস বলেছে, কূটনৈতিক দিক থেকে এই চুক্তি নরেন্দ্র মোদির জন্য আরও এক বড় ধাক্কা। সত্যিই কি এটা বড় ধাক্কা?
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর চার মাস পর। পিঠে ভারতের হাতে মার খাওয়ার চিহ্ন নিয়েই পাকিস্তান নয়া দিল্লির বন্ধু সৌদি আরবের সঙ্গে একটা প্রতিরক্ষা চুক্তি করল। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে গত বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের কেউ আক্রান্ত হলে তা দুই দেশের ওপর ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, ভারত যদি অপারেশন সিঁদূরের মতো ফের পাকিস্তানে আক্রমণ করে তাহলে সৌদি আরব ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। প্রসঙ্গত, ২০১০-১৪ সালের মধ্যে সৌদি আরব মার্কিন যুক্তরাজ্য থেকে ৪৫টি যুদ্ধ বিমান ৩৮টি যুদ্ধ হেলিকপ্টার কিনেছিল। এছাড়া স্পেন থেকে ৪টি ট্যাঙ্কার বিমান এবং কানাডা থেকে ৬০০টিরও বেশি সাঁজোয়া যান কেনে। পাশাপাশি অনুমান করা হয়, সৌদি আরবের হাতে চিনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। পাশাপাশি সৌদির হাতে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘এফ-১৫’ এবং ইউরোপের পাঁচ দেশের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ লড়াকু জেটের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। এখন প্রশ্ন হল, আচমকা কেন পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করল সৌদি? নয়াদিল্লির সঙ্গে ‘মিত্রতা’ ভুলে রাওয়ালপিন্ডির ফৌজি জেনারেলদের পাশে দাঁড়াবে ওই আরব মুলুক?
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা অবশ্য মনে করেন, আগামী দিনে ভারত-পাক সংঘর্ষ যতই তীব্র হোক না কেন, তাতে মাথা গলাবে না সৌদি সরকার। সংবাদসংস্থা ‘রয়টার্স’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিয়াধের এক পদস্থ কর্তার বক্তব্য, ‘‘নয়াদিল্লির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ় এবং শক্তিশালী। এই চুক্তি তাতে ফাটল ধরাতে পারবে না’’। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ দাবি করছেন, এই চুক্তির বলে পাকিস্তানি জেনারেলরা কেবলমাত্র নিজেদের পকেট ভরার ব্যবস্থা করলেন। দাবি, সৌদি আরব-ইয়েমেন সীমান্তে হুথি জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য পাকিস্তান থেকে প্রায় ২৫ হাজার সৈন্য ভাড়া নিচ্ছে রিয়াধ। জানা যাচ্ছে, প্রতি সৈন্য পিছু মাসে পাকিস্তানকে সাড়ে তিন হাজার সৌদি রিয়েল দেবে রিয়াধ। অর্থাৎ, প্রতিরক্ষা চুক্তির আড়ালে পাকিস্তানি জেনারেলরা নিজেদের পকেট ভরানোর কাজ শুরু করলেন। সেই সঙ্গে কার্যত দেউলিয়া হতে বসা পাকিস্তানকে আরও সাহায্যের আশায় রিয়াধকে খুশি করতে শাহবাজ শরীফ ইসলামিক নেটো তৈরির চেষ্টায় রয়েছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post