কয়লাকে যতবার জল দিয়ে ধোয়া হোক না কেন, তার কালত্ব যায় না। তেমনই পাকিস্তান। ভারত অতীতে একাধিকবার এই দেশকে চরম শিক্ষা দিয়েছে। তবু চরিত্র বদলায়নি। এবার দেশটি নতুন ফন্দি বের করেছে। চাইছে ইসলামিক রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে নিজস্ব একটি ন্যাটো গোষ্ঠী তৈরি করা। সম্প্রতি দোহায় আরব এবং ইসলামিক রাষ্ট্রের ৪০ জনের বেশি শীর্ষ নেতারা নিজেদের মধ্যে একটি বৈঠক করে। বৈঠকের মধ্যমণি ছিল পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং তাঁর বিদেশমন্ত্রী ইশাক দর সেখানে ছিলেন। নতুন একটি ন্যাটো গোষ্ঠী গঠনের প্রস্তাব পেশ করে পাকিস্তান। কেন এটি তৈরি করা দরকার, তারও কারণ ইসলামাবাদের তরফে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বৈঠকে ইসলামাবাদ বলেছে, ইজরায়েল এভাবে ইসলামিক রাষ্ট্রগুলির ওপর বদলা নেবে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। সম্ভব নয়। সময় হয়েছে মারের বদলে পাল্টা মার দেওয়ার। আর সেটা তখনই সম্ভব হবে যদি নিজেরা একটি ন্যাটো গোষ্ঠী তৈরি করি।
আন্তর্জাতিক মহল বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছে। তাদের মতে, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলের সাহায্য চাইতে চাইতে ফতুর হয়ে গিয়েছে। যতবার আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন চেয়েছে, ততবার তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যু তোলায় দিল্লি তাদের মুখে ঝামা ঘসে দিয়েছে। কোনওদিক থেকেই কাশ্মীর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় বুঝে পাকিস্তান সে দেশের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে ভারতের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে। তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। অপারেশন সিঁদুর পাক সীমান্তে থাকা জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকা এখন তাদের অর্থ সাহায্য করতে নারাজ। কারণ, ওয়াশিংটন বুঝে গিয়েছে ওই অর্থ দিয়ে ইসলামাবাদ জঙ্গিদের পুষ্টিকর খাবার আর অস্ত্র কেনার জন্য খরচ করবে। তাই, নতুন একটা কিছু করতে হবে, যেখান থেকে নিশ্চিন্তে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া যায়। আর সেই উদ্দেশ্য নিয়েই পাকিস্তান ইসলামিক ন্যাটো গোষ্ঠী গঠনের জন্য আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে।
পাকিস্তানের এই উদ্যোগের আরও বড় কারণ, সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রগঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে দিল্লি। এত কিছুর পরেও কিন্তু ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং মিশরের। এই তিন রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তুরস্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে আন্তর্জাতিকমহল। আন্তর্জাতিকমহল এটাও বলছে, পাকিস্তানের ইসলামিক ন্যাটো বাহিনী গঠন কোনওকালেই সম্ভব হবে না। তবে পাকিস্তান কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদির সঙ্গে তারা প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। সেই চুক্তিতে তারা আরও কয়েকটি দেশকে টানতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতের সমস্যা হতে পারে। আরও কয়েকটি দেশ এই চুক্তিতে সই করলে ভারতের উদ্বেগ আরও বাড়বে। অনেকে মনে করছেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধেরত ইজরায়েলকে বার্তা দিতেই পাকিস্তান ও সৌদি আরব এই প্রতিরক্ষাচুক্তিতে সই করেছে। কাতারে ইজরায়েলের হামলার পর এই চুক্তির তাৎপর্য আরও বেড়েছে বলে তাঁদের মত। পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানকে পাশে নিয়ে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে শক্তি বৃদ্ধি করবে সৌদি।
এই চুক্তির বিষয়ে ভারত অবগত। বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের বিদেশমন্ত্রক থেকে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিবেচনা করে এই চুক্তির প্রভাব খতিয়ে দেখবে নয়াদিল্লি। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারতের সঙ্গে কোনও বিবাদে জড়াবে না সৌদি।












Discussion about this post