এরকমটা হওয়ার কথাই ছিল। দেখার ছিল কবে হয়।
শুক্রবার জুম্মার নমাজ শেষে পথে নামল জামায়াতে ইসলামি। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চেয়ে দিল স্লোগান। সেই স্লোগানের তেজে কেঁপে উঠল বঙ্গভবন। ইউনূস নাকি তাঁর কাছের লোকজনকে বলেন, বঙ্গভবনকে প্রেক্ষাগৃহের মত তৈরি করতে হবে, যাতে বাইরের কোনও আওয়াজ ভিতরে না আসে।
জামায়াতের সঙ্গে ইউনূসের মধুচন্দ্রিমা অনেকদিন আগেই শেষ হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করেছে। দিয়েছে খোঁটা, করেছে কটাক্ষ। জামায়াতের মূল দাবি, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ। রাজধানী ঢাকা সহ সাত বিভাগীয় শহরে একই দিনে জামায়াতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। তাদের এই মিছিলে বহর দেখে পুলিশের ভয়ে চুপসে গিয়েছে। জামায়াতের মিছিলে সামিল হয়েছিল সমমনোভাবাপন্ন বেশ কয়েকটি দল। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে রংপুরের পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ সমাবেশ। নেতৃত্ব দেন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক গোলাম পরোয়ার। সেই বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ইউনূস এবং তাঁর সরকারকে বাক্যবাণে বিঁধেছেন। বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতেই ভোট করাতে হবে।’ সরকারের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা ‘পিআর-য়ের পক্ষে মতামত গ্রহণ করুন। আমরা জামাতে ইসলামির পক্ষ থেকে কথা দিচ্ছি অধিকাংশ জনগণ যদি পিআর-য়ের পক্ষে ভোট দেয়, আপনাদেরকেও মানতে হবে। যারা কালো টাকা দিয়ে, কোটি কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য করতে পারবে না তারা পিআর ঠেকাতে চায়। ’ বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে স্লোগান ওঠে – ‘পিআর পিআর পিআর চাই, পিআর ছাড়া গতি নাই।’
সিলেটেও হয়েছে বিক্ষোভ সমাবেশ। সেখানকার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া দলের নেতারা বলেন, পিআর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার দাবি জানান। সেই সঙ্গে বলেন, আলোচনার টেবিলে এর সমাধান না হলে গণভোট করতে হবে। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট থেকেও এসেছে বিক্ষোভ কর্মসূচির খবর। চট্টগ্রামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা সমবেতভাবে বলেন, অতীতে দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি তারা এখন দেশের মানচিত্র বদলের চেষ্টা করছেন। দলের এক নেতাকে বলতে শোনা যায়, অনেকেই একটি দেশের পকেটস্থ হয়ে এই দেশকে আবার বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’
এক মিছিলে জেরবার দশা ইউনূসের। একই দিনে আরও একটি মিছিল হয়েছে। সেই মিছিলের মূল দাবি ঢাকায় ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। তাতে অংশ নেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমির। অভিযোগ করেন, ড. মহম্মদ ইউনূস নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। তিনি একটি দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তাদের সুবিধে দেওয়া হচ্ছে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভাষণ দিতে গিয়ে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-য়ের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি বলব ইউনূস সাহেব আপনি আর নিরপেক্ষ নন। আপনি নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছেন। ’ বরিশাল, গাজীপুর থেকেও পাওয়া গিয়েছে বিক্ষোভ মিছিলের খবর।
হাওয়া যে কতটা খারাপ, সেটা ইউনূস এখন বেশ ভালো বুঝতে পারছেন। কিন্তু বুঝেও আর তাঁর কিছু করার নেই। সেনার সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আগে যারা খুব কাছের লোক ছিল, তারাও এখন আর তাঁর পাশে নেই। পাশে নেই বিএনপি। ইউনূস এখন কোথায় গেলে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারবেন, সেই জায়গার খোঁজ শুরু করেছেন। এটাও বুঝতে পেরেছেন, সময় যত গড়াবে পরিস্থিতি আরও তাঁর বিরুদ্ধে যাবে। সুতরাং, য পলায়তি, স জীবতি।
মানে শত্রুর সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারলে পালিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।












Discussion about this post