দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের ভুখন্ডে মার্কিন সেনার উপস্থিতি ঘিরে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহাবাজ শরীফ বর্তমানে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসকে ঘিরে এক মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে কূটনৈতিকদের বিশ্লেষণ। তাঁদের মতে, পাকিস্তান সরকার ও বাংলাদেশের অবৈধ সরকারের এই যৌথ কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য হল ভারত ও চিনকে স্থায়ীভাবে টেনশনের মধ্যে রাখা। এর ফলে কৌশলগত লাভবান হবে ওয়াশিংটন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হবে ইসলামাবাদ ও ঢাকা।
এই বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে উঠে আসছে নানা যুক্তি। যেমন, মধ্যপ্রাচ্যের লেবানন, সিরিয়া কিংবা গাজার মতো সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দক্ষিণ এশিয়াতেও যুদ্ধ বাধানোর একটা নকশা এঁটেছে এই জোট। তাদের লক্ষ্য ভারত ও চিনকে সায়েস্তা করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তিশালী করা।
পাকিস্তান ইতোমধ্যেই সৌদি আরবের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে এবং একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কূটনৈতিক পদক্ষেপের আড়ালে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আর ইসলামবাদ এই সব করছে অপারেশন সিঁদুরে ভারতের কাছে পর্যুদস্ত হওয়ার পর।
অন্যদিকে, ড. ইউনুসকে প্রধান করে বাংলাদেশে গঠিত তদারকি সরকারকে অনেকেই সরাসরি আমেরিকার “পাপেট সরকার” হিসেবে উল্লেখ করছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে মার্কিন সৈন্য সমাবেশ শুরু হয়েছে, তার আগে ঘনঘন মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক কর্তাদের তৎপরতা দেখা গিয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ দাবি করছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চিন ও ভারতের মতো দুই মহা শক্তিধর দেশকে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকা গভীরভাবে করছে। এই সমন্বিত কর্মকাণ্ড দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য নতুন এক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেও কূটনৈতিক মহলের দাবি।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠে বাংলাদেশ কোন দিকে হাঁটছে?
ভারত–চিন–রাশিয়ার নতুন জোট নাকি পাকিস্তান–তুরস্ক–আমেরিকা জোটের দিকে? ইউনুস সরকারের ভূরাজনৈতিক কর্মসূচি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে তাঁরা পাকিস্তানি গোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষা করে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির ব্যাপক উত্থান ঘটছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক ভারসাম্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতবিরোধী প্রচারণা ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে সাধারণ বাংলাদেশীদের ভারতবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলা হয়েছে বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে। এটি বাংলাদেশের জন্য অভ্যন্তরীণ শান্তি ও আঞ্চলিক সম্পর্কের জন্য একটি জটিল চ্যালেঞ্জ। যা দিনে দিনে মুহাম্মদ ইউনূসকে এক পক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনুসের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বাংলাদেশকে কার্যত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। অনেকেই সতর্ক করছেন, যদি ইউনুসকে প্রতিহত না করা হয়, তবে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ বড় বিপদের মুখে পড়বেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য এখনই সময় এসেছে সচেতন হওয়ার। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন হতে দেওয়া যাবে না। কোনও বিদেশি শক্তির স্বার্থে দেশের ভূখণ্ডকে সংঘাতের মঞ্চ বানানো এক মারাত্মক আত্মঘাতী পদক্ষেপ হতে পারে। তিনি প্রশ্ন তুলছেন, আমরা কি আবারও আঞ্চলিক শীতল যুদ্ধের বলি হতে যাচ্ছি, নাকি সময় থাকতে জাতীয় কণ্ঠস্বর তুলে স্থিতিশীলতার জন্য সঠিক অবস্থান নেব। উল্লেখ্য ভারতের আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনা যখন এই আওয়াজ তুলছেন, তখন ভারতও চুপ করে বসে থাকবে না। কারণ বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।












Discussion about this post