হাসিনা সরকার ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর পিনাকী ভট্টাচার্য ইউটিউবে একটি কন্টেন্ট আপলোড করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, তদারকি সরকারের থেকে তিনি কী আশা করেন। আর এক বছর বাদে তিনি আরও একটি কন্টেন্ট আপলোড করেছেন। সেখানে যাচ্ছেতাই ভাষায় গাল দিয়েছেন। সে ভাষা এতটাই জঘন্য যা লেখা যাচ্ছে না। ইউনূস সরকারের উপদেষ্টাদের ডায়াপার পরা বৃদ্ধ বলে কটাক্ষ করেছেন। ভারতকে ইলিশ পাঠানোর সমালোচনা করেছেন। নেপালের প্রসঙ্গ তুলে পিনাকী ভট্টাচার্য ইউনূস সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘নেপালে দেখছেন না কী হয়েছে। নেতাদের কাপড় খুলে পিটিয়েছে। আপনাদেরও পেটাবে। এখন পেটাতে পারছে না কারণ সরকারের পাশে পুলিশ রয়েছে সেনা রয়েছে। কিন্তু পুলিশ ও সেনা একদিন না একদিন যাবে। তখন আপনাদের কী হবে।’
তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা – ‘এরা জানে না দেশবাসী কী চায়। জানেও না কোনটা করা উচিত। একেবারে যাচ্ছেতাই একটা সরকার।’ আদানিদের সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গ তুলেছেন তাঁর কন্টেন্টে। পিনাকী ভট্টাচার্য বলেন, ‘হাসিনা পালানোর পর চুক্তি বাতিলের কথা হয়েছিল। এখন নতুন করে চুক্তির কথা ভাবা হচ্ছে। সব কিছুর দাম বেশি বেশি করা ধরা হচ্ছে। আগে না হয় হাসিনা ক্ষমতায় ছিলেন। তাই তিনি কমিশন খেতেন। এখন তো হাসিনা আর ক্ষমতায় নেই। তাহলে কমিশনের টাকা কে খাবে।’
চট্টগ্রাম বন্দর অত্যন্ত লাভজনক একটি বন্দর। এই বন্দর থেকে ভালোই লাভ হয় সরকারের। অথচ এই বন্দরের মাশুল এক লাফে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল কার স্বার্থে। এতে তো জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে। আগে যারা কম দামে বাংলাদেশে পণ্য পাঠাত, মাশুল বৃদ্ধির ফলে তারা তাদের পণ্যের দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়িয়ে দেবে। ইউনূস সরকারকে পিনাকী ভট্টাচার্যের প্রশ্ন ‘দেশে কি আপনাদের জমিদারি চলছে। ’
ইলিশ পাঠানো নিয়েও কটাক্ষ করেছেন পিনাকী ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, তদারকি সরকারকে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তদারকি সরকার সেই পরামর্শ কানে তোলেনি। উলটে ভারতের সঙ্গে আরও বেশি করে মাখামাখি করেছে। এর ফল যে আগামীদিনে ভালো হবে না সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন পিনাকী ভট্টাচার্য। তদারকি সরকারে এমন কয়েকজন আছে, পিনাকী ভট্টাচার্যের কথায়, তারা আসলে ভারতের বন্ধু। চায়, তদারকি সরকার দিল্লির সঙ্গে প্রেম-প্রীতির সম্পর্ক তৈরি করুক। ইউনূস সরকারকে তাঁর প্রশ্ন, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বেশ কয়েকজনেক তদারকি সরকারে নেওয়া হয়েছে কী কারণে। আর এর ফলাফল তো ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে দেখা গিয়েছে। আগামী দিনে বাংলাদেশের যে কটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হবে সেখানে ফলাফল মোটেই সরকারের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে না। সব থেকে নৈতিক প্রশ্ন, ছাত্রদের কী সরকারে থাকার বৈধতা থাকে? একেবারেই না। এই ছাত্রদের মন্ত্রী বানিয়ে ইউনূস অত্যন্ত ভুল পদক্ষেপ করেছেন। এখন সেই ভুল পদক্ষেপের মাশুল তাঁকে গুনতে হচ্ছে।
ইউনূস সরকারের কাজ হচ্ছে এখন খালি স্ট্যাটাস দেওয়া আর মোছা। এই সব করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে আর ভারতের থেকে পালটা গালিগালাজ খেতে হচ্ছে। পিনাকী ভট্টাচার্যের রাগের আসল আরও অনেকের মতো তিনিও এই সরকারের থেকে কিছু প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু এক বছরে সরকার কোনও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। উলটে দেশকে ক্রমেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post