বাংলাদেশ ও আমেরিকার যৌথ সেনামহড়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এর কারণ, ইউনূস সরকার বিষয়টি গোপন রেখেছিল। পরে নেট দুনিয়ায় শোরগোল শুরু হলে বাংলাদেশ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর (ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশন বা আইএসপিআর) ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে পৃথক বিবৃতি জারি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিমান বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের সাতদিনের যৌথ মহড়া চলছে। এর নাম অপারেশন প্যাসিফিক এঞ্জেল ২৫-৩।’ মহড়াটি শুরু হয়েছিল গত রবিবার। চিকিৎসা প্রস্তুতি, বিমান নিরাপত্তা, প্রকৌশল সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওই যৌথ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল অবস্থা আপৎকালীন সঙ্কটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান ব্যবহার করা হয়। এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য আমেরিকার সঙ্গে যৌথ মহড়া। অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৯০ জন সদস্য, আমেরিকার ৯২জন, শ্রীলঙ্কা বিমানবাহিনীর দুজন চিকিৎসাকর্মী, ওরেগন এয়ার ন্যাশনাল গার্ড ও আঞ্চলিক সহযোগী অংশীদারেরা। শুক্রবার আইসিপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে মহড়া শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
আইসিপিআর জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিমানবাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক শেষ হয়েছে। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সহকারী বিমানবাহিনীর প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস জাভেদ তানভীর খান সমাপ্তি ভাষণ রাখেন। দুই দেশের অংশ্রগ্রহণকারীদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের প্রবীণ সামরিক ও বেসরামরিক কর্মকর্তা, মহড়ায় অংশগ্রহণকারী বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা এবং তিন বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। ওই মহড়া ১৪ সেপ্টেম্বর বিমানবাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক-য়ে শুরু হয়েছিল।
ঢাকায় মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায়, ‘মহড়া প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং মানবিক উদ্ধারকাজ প্রস্তুতির অঙ্গীকারকে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে। ভবিষ্যৎ সংকটে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়াবে। ’ ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজে এই যৌথ মহড়ার খবর পোস্ট করা হয়েছে। যৌথ মহড়ার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল মহড়ার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা।
প্রশ্ন এখানে। আঞ্চলিক সহনশীলতা গড়ে তোলা এবং ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সহযোগিতাকে সুদৃঢ় করা যদি উদ্দেশ্য হয়, তবে তার জন্য এতো গোপনীয়তা কেন? দেশ বিদেশের কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা – চট্টগ্রাম সংলগ্ন মায়ানমারে যখন চিনের প্রভাব বাড়ছে, আমেরিকা মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে। তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে অস্ত্র। আবার কারও কারও সন্দেহ বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে দখলদারির মহড়া এটি। কারণ, এই দ্বীপের দিকে আমেরিকার নজর অনেকদিন ধরে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ারফোর্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর নানা ধরনের প্রশিক্ষণমূলক অনুশীলন পরিচালনা করে আসছে। বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা ও আপদকালীন সংকট নিরসনে বিমাবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করে থাকে।
অপরদিকে, চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেল কর্তৃপক্ষ বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, নথিভুক্ত হওয়া ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অতিথি সেখানে থাকছেন, এমন অভিযোগ সত্য নয়।
এদিকে, মঙ্গলবার ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি আইএল ৭৬ বিমান সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর ১২০জন সদস্য নিয়ে মায়ানমারে রাজধানী ন্যপিদে অবতরণ করে। অনেকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে মার্কিন-বাংলাদেশ মহড়ার জবাবি পদক্ষেপ এটি। ’ তবে দিল্লি জানিয়েছে, তৃতীয় ভারত-মায়ানমার পারস্পরিক সম্পর্ক বিনিময় –য়ের অংশ ছিল এই সফর। শনিবার এই কর্মসূচি শেষ হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post