বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশে সাধারণ নির্বাচন। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষও ফেব্রুয়ারিতেই ভোট চাইছে। সম্প্রতি এই নিয়ে দেশজুড়ে একটি সমীক্ষা করা হয়। সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, ৮৬.৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হওয়া উচিত।
রবিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে পিপলস ইলেকশন পার্লস সার্ভে রাউন্ড – ২য়ের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭৮.৭ শতাংশ মানুষ সরকারের কার্যক্রমকে মধ্যম মানের বলে মূল্যায়ন করেছেন। তবে তরুণ, শিক্ষিত ও নগরবাসীদের মধ্যে সন্তুষ্টির হার তুলনায় অনেক কম।
৬৯.৯ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম। ৭৭.৫ শতাংশ মানুষের বিশ্বাস, তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন। তবে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তরুণ ও শহরবাসীর সংশয় তুলনামূলকভাবে বেশি। আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে, ৫৬.৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, গত ছয় মাসে চাঁদাবাজি বেড়েছে। বিশেষ করে শহরের তরুণ এবং উচ্চশিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যে তদারকি সরকারের ভাবমূর্তি মোটেই উজ্জ্বল নয়।
ধর্মীয় সংখ্যালঘু সমপ্রদায়গুলো অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতার বিষয়ে তুলনামূলক কম ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেছে। ৭১.২ শতাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে এ সরকারের ওপর আস্থা রাখলেও হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধদের ক্ষেত্রে এ হার যথাক্রমে ৫৯.৪ শতাংশ, ৫৪.৮ শতাংশ এবং ৬৭.৩ শতাংশ।
তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি নিয়ে বলে জানিয়েছে ৫৬ শতাংশ। যাদের ধারণা আছে তাদেরও ২২.২ শতাংশ পিআর পদ্ধতি উচিত বলে মতামত দিয়েছে। আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশশে সংসদে উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁদের ধারণা নেই। অন্যদিকে এ সম্পর্কে যাঁরা জানেন, তাঁদের ২২.২ শতাংশ বলেছেন, পিআর পদ্ধতি থাকা উচিত নয়। ২১.৮ শতাংশ এ পদ্ধতির পক্ষে বলেছেন। প্রবীণদের তুলনায় নবীন প্রজন্ম এ বিষয়ে বেশি সচেতন ও ইতিবাচক।
সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার। তিনি বলেন, চলতি বছর ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর সমীক্ষা করা হয়। দেশের ৬৪ জেলায় ১০ হাজার ৪১৩ জন অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরুষ ৫৪.২ শতাংশ এবং মহিলা ৪৫.৪ শতাংশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকূল আলম। জরিপ ফলাফলে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত ব্যারেজ অফ মিস ইনফরমেশনের পরেও একটা সরকারের জন্য ১৪তম মাসে এসে এরমক একটি ফলাফল দুর্দান্ত। এটি এই সরকারের জন্য একটা বড় সমর্থন।
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের যে সময় জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের যে সময় দিয়েছে, (জরিপে) সে বিষয়ে একদম সুস্পষ্ট, জোরালোভাবে হ্যাঁ বলেছে সবাই। আমরা যে কথাটা বলছি, ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের নির্বাচন হবে—অন্তর্বর্তী সরকার বারবার বলছে, অধ্যাপক ইউনূস বারবার বলছেন, প্রেস উইংয়ের তরফ থেকেও আমরা বারবার বলছি। (জরিপের ফলাফলে) বোঝা গেল যে মানুষের ট্রাস্ট (বিশ্বাস) আছে। মানুষ ভাবছে ভালো একটা নির্বাচন হবে।’
পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোই সিদ্ধান্ত নেবে এবং এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো বক্তব্য বা অবস্থান নেই বলেও জানান প্রেস সচিব।












Discussion about this post