ভুল। সেই ভুল ঢাকতে গিয়ে আবার ভুল। একের পর এক ভুলের ভুলভুলাইয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছেন অধ্যাপক ইউনূস।
নতুন ভুল নিউ ইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে। ইউনূস তাঁর মার্কিন সফরে বিএনপির দুইজনকে নিয়ে গিয়েছেন। তাতে অসন্তুষ্ট জামায়াত এবং এনসিপি। তাদের প্রশ্ন, বিএনপি থেকে যদি দুইজনকে ইউনূস নিয়ে যেতে পারেন, তাহলে তারা কী দোষ করল। জামায়াত এবং এনসিপির গোসা হয়েছেন সেটা আঁচ করতে পেরে এবার ইউনূস ওই দুই দলের থেকে আরও একজন একজন করে ইউনূস তাঁর মার্কিন সফরের সঙ্গী করেছেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পরামর্শে কাজ করতে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিপদ বাড়ছে। তাদের পরামর্শ মেনে জুলাই সনদ কার্যকর করলে তাঁর অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কারণ, সনদ এই ধরনের সরকারের বৈধতা স্বীকার করে না। ইউনূস পড়েছেন মহা ফ্যাসাদে। মিত্রদের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে যুক্তরাষ্ট্র ছুটে গিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ। ২০ সেপ্টেম্বর তিনি রাতে ঢাকা ছাড়েন। সূত্র মারফৎ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, আলী রিয়াজের ফিরে আসার কথা ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে। যুক্তরাষ্ট্রে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই আলোচনার মোড় ঘুরে গিয়েছে।
তদারকি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১০ মাসে ১১টি দেশ সফর করেছিলেন। রাষ্ট্রের টাকায় এমন আরামদায়ক সফর করার সুযোগ পেলে কে না সদ্ব্যবহার করে। আর তা নিয়ে প্রশ্ন কম ওঠেনি। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, এই সফরগুলি থেকে ইউনূসের ব্যক্তিগত লাভ হয়েছে। আবার ভিন্ন মতও রয়েছে। একাংশের দাবি, বাংলাদেশের ভাবমূর্ত উজ্জ্বল করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি বিদেশ সফর করেছেন। সর্বশেষ গত ৯ জুন ৩৭জনের এক প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা লন্ডন যান। সফরটি দ্বিপাক্ষিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলে। এই সফরের খরচ বহন করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। শুধু লন্ডন শহরের অন্যতম ব্যয়বহুল হোটেল ডরচেষ্টারে চার রাতের জন্য ৩৭টি ঘর বুক করা হয়েছিল।
সব দিক সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে ইউনূস ভোটের দিন তারিখ ঘোষণা করেন। সেটা করেও আরও বিপদ ডেকে বসে আছেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছেন। মেয়াদ বাড়িয়েছেন এক মাস। ১৫ অক্টোবর শেষ হবে মেয়াদ। মিত্রদের মন পেতে ইউনূস নানা ঘসামাজা করেছেন। যদিও মন জয় করতে পারেননি। জুলাই সনদের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে জামায়াতের আপত্তি রয়েছে। অন্যদিকে, ইউনূস জানিয়েছেন, জুলাই সনদ থেকে বেরিয়ে আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। যে সমঝোতার রাস্তায় তিনি হাঁটা শুরু করেছেন, সেখান থেকে আর পিছন দিকে ফিরে তাকানো যাবে না।
এদিকে আবার জামাত এবং এনসিপির সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা ও দলটির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছেন, নির্বাচন সংস্কারসহ বেশ কিছু ইস্যুতে বর্তমানে এনসিপির মধ্যে দুইটি স্পষ্ট ধারাও তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনীতির মাঠ বুঝে আপাতত কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছে এনসিপি। আপাত দৃষ্টিতে যেটিকে দূরত্ব বা টানাপোড়েন মনে হলেও ভোটের সময় ঘনিয়ে আসলে এনসিপির সেই অবস্থানেও পরিবর্তন আসতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশ্লেষক রাশেদা রওনক খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, লক্ষ্যের জায়গা এক ছিল, কিন্তু লক্ষ্য অর্জনের পর বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব তৈরি হয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post