সেই ১৯৭১ সাল থেকেই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক। তবে শেখ হাসিনার বিগত ১৬ বছরের শাসনকালে এই সম্পর্ক সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই সম্পর্কে চিড় ধরেছে সম্প্রতি। বলা ভালো, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট যখন শেখ হাসিনা সরকারের পতন হল, তার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে চির ধরেছে। এর জন্য দায়ী মুহাম্মদ ইউনূস স্বয়ং। ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ যেন ভারত-বিরোধী অবস্থান অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। কখনও কলকাতা, সেভেন সিস্টার্স দখলের হুমকি দিয়েছে, কখনও আবার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেছেন উপদেষ্টারা। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, ইউনূস জমানায় বাংলাদেশ কি ভারতের উপরে নির্ভরশীলতা কমিয়েছে?
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় ৮ আগস্ট। ওই সময় থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা-সহ অনেকের বক্তব্যেই থাকতো ভারতবিরোধিতা। যদিও পটভূমিকা তৈরি হয়েছিল অনেকটা আগে থেকেই। গত বছরের প্রথম থেকেই বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় “ইন্ডিয়া বয়কট” বা “বয়কট ইন্ডিয়ান প্রোডাক্টস” প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। যদিও ওই প্রচারণায় কর্ণপাত করেননি তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ। কিন্তু ওই প্রচারণা ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে একটা ভারত বিরোধিতার বীজ বুনে দিয়েছিল। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশের বাণিজ্য তথ্য নিয়ে আলোচনা করলে উঠে আসবে একটা আশ্চর্যজনক ফল। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম বণিক বার্তায় এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ভারতের থেকে আমদানি করেছিল ৯১.৭৩ কোটি ডলারের পণ্য। আর এ বছর জানুয়ারি মাসে ১০৭,৫৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ভারত থেকে ১৫.৮৩ কোটি ডলার বেশি পণ্য কিনেছে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ভারত থেকে আমদানি কমানোর বদলে বরং ভারত নির্ভরতা আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেই বাংলাদেশে ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে ১৭ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর প্রথম দিকে দুই দেশের বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছিল। সেই সময় ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি কমেছিল ১৯ শতাংশ মতো। ওই সময় ভারত আলু, পেঁয়াজ, ডিম, লঙ্কার আমদানি বন্ধ করতেই বাংলাদেশের বাজারে বড় সঙ্কট দেখা গিয়েছিল। এরপরই বাধ্য হয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আবারও ভারত থেকে আলু, পেঁয়াজ, ডিম, লঙ্কা আমদানি করতে শুরু করে। বাংলাদেশ মূলত ভারত থেকে তুলো, চাল ও বিভিন্ন সবজি-সহ খনিজ, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিষেবা আমদানি করে। আর ভারত বাংলাদেশ থেকে কেনে তৈরি পোশাক। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম বণিক বার্তার তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ১০ মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে রফতানি করা পণ্যের মোট মূল্য ছিল ৯৩৯ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার। যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে বাংলাদেশে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৮৮০ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের। নতুন বাংলাদেশ দাবি করেছিল, ভারতের উপরে নির্ভরতা কমাবে তারা। দুই দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তবে ভারতের মুখাপেক্ষি হয়েই থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। বরং বলা চলে, বাংলাদেশের নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে।












Discussion about this post