স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে সবচেয়ে সংকটময় সময়ের মধ্য দিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে সঙ্গীন। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মহাপ্রলয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ধর্মনিরেপেক্ষ বাংলাদেশে এখন মৌলবাদী শক্তিগুলির দাপাদাপি। আইনশৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতির ফলে ওই দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন করাটাই এখন বিস্ময়কর। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের। বিগত এক বছরে বিশেষ করে টার্গেট হয়েছে বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুরা। গত বছরও দূর্গাপুজোর আগে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। এবারও তাই পরিস্থিতি। শান্তিতে নোবেল জয়ী একজন শাসক রয়েছেন বাংলাদেশে। যার উপর ভরসা করে বাংলাদেশের মানুষজন অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন। হাসিনাকে তাড়ানোর তাড়াহুড়োয় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যে খাল কেটে কুমির এনেছেন, সেটা এখন তাঁরা হাড়ে হাড়ে বুঝছেন। যারা ভেবেছিলেন ইউনূসের আমলে স্বর্গের স্বাদ উপভোগ করবেন, তাঁরাই এখন ভোগ-উপভোগের মাঝখানে সাংস্কৃতিক সম্ভোগের মধ্যে পিষছেন। প্রসঙ্গ দুর্গাপুজো। বাংলাদেশে এবার প্রায় ৩৩ হাজার দুর্গাপুজো হচ্ছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মাতৃপক্ষ পড়ার আগেই কয়েকটি এলাকায় মণ্ডপ ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে গিয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, যাঁর কাঁধে সকলের রক্ষা করার দায়িত্ব, তিনি পড়ে রয়েছেন পুজোর মাঠে মেলা যাতে না হয় তা নিয়ে।
কয়েকদিন আগেই জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেছিলেন পুজোর সময় মেলা বসানো যাবে না, কারণ সেখানে নাকি মদ-গাঁজার আসর বসে। স্বয়ং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মতো দায়িত্বশীল পদে বসে কেউ যদি এমন হাস্যকর দাবি করেন তাহলে সে দেশের আইন-শৃঙ্খলা কি অবস্থায় রয়েছে তা সহজেই বোঝা যায়।
বারো-তেরো দিন আগে তাঁর এই মন্তব্যের পর প্রবল বিতর্ক হয়েছিল। এমনকি সেদিন তিনি যে দাবি করেছিলেন এবার পুজোয় কোনও গোলমাল হবে না বলে, সেটাও হয়নি। কারণ, গাজীপুর ও কুষ্ঠিয়ায় দুটি মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে। এবার তিনি দাবি করলেন, আরও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হচ্ছে দুর্গাপুজোয়। কিন্তু মেলা নিয়ে তিনি তাঁর দাবিতে অনড়। যদিও মেলায় মদ-গাঁজা খাওয়ার দাবি থেকে তিনি ডিগবাজি খেয়েছেন। তবে এবার বললেন পুজোর সময় মেলা বসলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। মদ-গাঁজা প্রসঙ্গ তিনি এবার মুখে আনেননি।
পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। কারণ নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মজার বিষয় হল, একটা গণতান্ত্রিক দেশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হাসিমুখেই জানালেন, পুজো কমিটিগুলিকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মণ্ডপ তৈরির সময় থেকেই নিজেদের মতো করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে নিতে।
দেশের ধর্মভিত্তিক দলগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। দেশের নানা প্রান্তরের সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পকলা একাডেমি, পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে হামলার খবর এসেছে বারবার। ইসকনের সন্নাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর আজও জামিন হয়নি। কার্যত বিনা বিচারেই তিনি কারাগারে বন্দি। এই আবহে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা বা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যতই নিরাপত্তার আশ্বাস দিক না কেন। বাংলাদেশের সাধারণ সংখ্যালঘুরা কিন্তু এখনও আতঙ্কিত। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁরই পাশে দাঁড়ানো রামকৃষ্ণ মিশনের সন্নাসীর মুখের ভাষা পড়তে পারলেই আপনি সবটা বুঝতে পারবেন।












Discussion about this post