চলতি বছরের ১২ মে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে সাবেক শাসকদল আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। তবে দলকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। এবার সেই পথেই এগোতে চাইছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। জানা যাচ্ছে বিতর্ক এড়াতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় এই কাজটি করা হবে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক সূত্রের দাবি, আসন্ন নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সব ধরণের চেষ্টা নেওয়া হচ্ছে। যাতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তাঁদের উপর লাগু হওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে না হয়। তাই এবার রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে চায় ইউনূস সরকার। আর এই কাজটি দুটি উপায়ে করার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা হয়েছে।
সূত্রগুলি বলছেন, শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান জামান খান কামাল এবং বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে মামলা চলছে, তাতে আওয়ামী লীগকেও অন্তর্ভূক্ত করা হবে। আর দ্বিতীয়টি হল, দল হিসাবে আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে নতুন করে মামলা দায়ের করা হতে পারে। বাংলাদেশের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কথায়, ট্রাইব্যুনাল আইনে সেই বিধানও আছে। সংঘঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক দলকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার নজির আছে বলেই জানিয়েছেন বাংলাদেশের চিফ প্রসিকিউটর। উল্লেখ্য, তিনি উদাহরণ হিসেবে ভারতের আম আদমি পার্টির প্রসঙ্গ তুলছেন। তাঁর কথায়, ভারতে আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে এমনই মামলা এখন বিচারাধীন। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ও ইডি দিল্লির মদ কেলেঙ্কারির তদন্ত রিপোর্টে দলগতভাবে আম আদমি পার্টির অংশ নেওয়ার অভিযোগ এনেছে। তেমনই গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে গণহত্যার জন্য আওয়ামী লীগের নামেও মামলা করা যেতে পারে। এবং সরকার এই দুটি উপায়েই আওয়ামী লীগকে যুক্ত করতে চাইছে। এমনটা হলে আওয়ামী লীগের উপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করতে আর কোনও বাঁধা থাকবে না। জানা যাচ্ছে, এই ধরণের প্রস্তাব এনেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি গত সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। রবিবার নাহিদ ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় জানান,কোনও নির্বাহী আদেশে নয়, বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন। সময় যত এগোচ্ছে, ততই বাংলাদেশের রাজপথে আওয়ামী লীগের মিছিলে জনসমর্থন বাড়ছে। এটাই একমাত্র ভয়ের কারণ মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর দোসর জামাত-এনসিপির। সেই কারণেই শেখ হাসিনার দলকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দিতে পারলেই তাঁরা ভয়মুক্ত হবেন। কারণ, কোনও ভাবে যদি আবার আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে, তাহলে এই নাহিদ বা তাঁর সঙ্গীরা কোনও ভাবেই পার পাবেন না। ঢাকার একাধিক সূত্রের দাবি, ইউনুস সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই নাহিদ ইসলাম এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। যা সঙ্গে সঙ্গে তা লুফে নিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। সম্ভবত আগামী মাসের গোড়ায় ঢাকার আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে নতুন কোনও মামলায় আওয়ামী লীগকেও যুক্ত করা হবে। আওয়ামী লীগের তরফে এই বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করা না হলেও নেতৃত্বের দাবি, এই ভয় ও আতঙ্ক তাঁদেরই রাস্তা সুগম করবে।












Discussion about this post