ড. ইউনূস নিউইয়র্কে পা রাখার আগেই রাজপথ দখল নিলেন আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার সমর্থক। জাতিসঙ্ঘের সদর দফতরের সামনে খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। ইউনূসের ছবিতে পরানো হয়েছে জুতোর মালা। অবৈধ ইউনূস সরকারের সফর ঘিরে নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন এবং প্রবাসী বাংলাদেশী ৭১-য়ের পক্ষের সকল মানুষের প্রতিবাদী মিছিল হচ্ছে। কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে। এমনটা হতে পারে, সেটা অনুমান আগেই করেছিলেন ইউনূস। তাই, সফরে নিয়ে গিয়েছে ফকরুল, তাহের, আক্তার, তাসমিনদের। যদিও সরকার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে এরা ইউনূসের পক্ষেই রয়েছেন। সরকারি প্রতিনিধিদল হিসেবে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পাঁচ নেতা। এরা হলেন – বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমীর সায়ীদ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ড. তাসনিম জারা। জামায়াত নেতা মোহাম্মদ নকীবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই প্রতিনিধিদলে যোগ দেবেন।
ড. ইউনূসকে স্বাগত জানাতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং তার সমমনোভাবাপন্নদলগুলি ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো তাঁর বিরুদ্ধে ‘যেখানে ইউনূস, সেখানেই প্রতিরোধ’ শীর্ষক তুমুল বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জেএফকে বিমানবন্দরে সম্ভাব্য বড় ধরনের অঘটনের আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, শিকাগো, বস্টন, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, নিউজার্সি এবং কানেকটিকাট থেকে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মী সমর্থকেরা যোগ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সামাদ আজাদ জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন। প্রতিবাদ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ইউনূস যে হোটেলে থাকবেন, সেই হোটেলের সামনে প্রতিদিন বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে। দেখানো হবে কালো পতাকা। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘে ভাষণ দেবেন মহম্মদ ইউনূস। ভাষণের সময় বাইরে কালো পতাকা দেখানোর সিদ্ধান্তন নেওয়া হয়েছে। আবার বিএনপি ইউনূস এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। পালটাপালটি কর্মসূচির কারণ নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কমিউনিটিতে এক ধরনের থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে আওয়ামী লীগের কর্মীসমর্থকেরা প্রধান উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখাবেন। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন, নিউ ইয়র্ক পুলিশ, মেয়র অফিসের কাছে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নিউ ইয়র্কে ফরেন সার্ভিসকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। আশা করি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাহায্য করবেন। প্রধান উপদেষ্টার সফর ঘিরে যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিএনপি জামায়েত আলাদাভাবে অবস্থান করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। তবে আমরা সতর্ক রয়েছি।’
প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশেন যোগ দেবেন। সেখানে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের। কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে তবে তা মোকাবিলা করবে সে দেশের কর্তৃপক্ষ। নিউ ইয়র্কে যুবদল নেতা মাসুদ রানা জানিয়েছেন, ড. মহম্মদ ইউনূসের সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, তার জন্য আমরা সতর্ক থাকব।












Discussion about this post