প্রথমে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল তদারকি সরকার। হাসিনা যাতে ভোট দিতে না পারেন, তার জন্য কেড়ে নেওয়া হয় নাগরিক অধিকার। এত কিছু করেও আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন দলের মিটিং বা মিছিলের খবর আসছে। ইউনূসের সরকার পুলিশকে বলেছে, মিছিলের খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারকে দায়ী করা হবে। ইতিমধ্য কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে ক্লোজ করা হয়েছে। চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বাড়ি ভাড়া দিতে নিষেধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্নফুলি পুলিশ। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে মাইকিং।
মে মাসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তদারকিতে দেশজুড়ে অভিযান চলে। দলের কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তবে তাতেও তাদের দমিয়ে রাখা যায়নি। উলটে সরকারি শাস্তির হুংকার উড়িয়ে তারা ঝটিকা মিছিল শুরু করেছে। শনিবার দুবাইতে ছিল ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ। প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্টেডিয়ামেও শেখ মুজিব এবং শেখ হাসিনার নামে স্লোগান দেয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৯ দিনে আওয়ামী লীগ ৬৮টি মিছিল করেছে। শুরু হয় ১৫ এপ্রিল থেকে। ওই দিন বাড্ডা-রামপুরার প্রধান সড়কে। এর পর কয়েকদিনের ব্যবধানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডী, তেজগাঁও, যাত্রাবাড়ি, মতিঝিল, ডেমরা ও উত্তরায় মিছিল হয়েছে। সবগুলিই ঝটিকা মিছিল। গত জুলাই ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সব মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ সহযোগী সংগঠনের ২৬৯জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। রবিবার কুমিল্লায় একটি বড় মিছিল থেকে পুলিশ আওয়ামী লীগের ২০জনকে গ্রেফতার করে।
আওয়ামী লীগের এক প্রাক্তন নেতা বলেন, এই সব কর্মসূচিতে একদিকে যেমন দলীয় সমর্থকদের মনোবল বাড়ছে, অপরদিকে ইউনূস সরকার হারিয়ে ফেলছেন আত্মবিশ্বাস। আওয়ামী লীগের শক্তি যে বাড়ছে তার প্রমাণ মিলেছে দলটির সাম্প্রতিক একাধিক কার্যক্রমে। শুক্রবার ঢাকায় এক যোগে একই সময় ২৬টি স্পট থেকে বেরিয়েছে মিছিল। মিছিল থেকে স্লোগান ওঠে ‘শেখ হাসিনা আসবে,বাংলাদেশ হাসবে’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। শুক্রবারের ওই মিছিলের দিন-কয়েক আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সব কটি থানার ওসিকে কড়া বার্তা দেওযা হয়েছে। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে সব জেলায় মিছিলের পাশাপাশি ঘরোয়া বৈঠক হচ্ছে।
জানানো হয়, যে সব থানা এলাকায় মিছিল হবে, সেই থানার ওসি-সহ সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সেই দিনেই শেরেবাংলা নগর থানার দুই অফিসারকে প্রত্যাহার করা হয়। সূত্রের খবর- আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ৬০ ফুট ও শ্যামলীতে ওই দিনই একাধিক বার ঝটিকা মিছিল হওয়ার কারণে তাঁদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত শুক্রবার পুলিশের মহম্মদপুর জোনের তিন অফিসারকে ক্লোজ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ঢাকায় আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি জানান, সরকার সমর্থিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে অনৈক্যের বাড়ার সুযোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে একযোগে বড় মিছিলের কর্মসূচি নিতে চলেছে আওয়ামী নেতৃত্ব। এলাকায় ভোটে দলের কর্মীদের কী ভূমিকা হবে, তা নিয়ে চলছে মত বিনিময়।
গোয়েন্দারা সরকারকে জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে ভোটোর নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই মাঠ গরম করে নিজেদের অস্তিত্ব ভালভাবে জানান দিতে চাইছে হাসিনার দল।












Discussion about this post