বিএনপি জামায়াতকে ভারত এক আসনে রাখায় অসন্তুষ্ট বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী তথা বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভারতের একটি পত্রিকাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আলমগীর বলেন, ‘ভারত মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী। সেই সময় এক কোটি মানুষকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশের তিন দিকে ভারত, এক দিকে সাগর। সুতরাং, ভারতের প্রভাব বাংলাদেশে থাকবেই। সমস্যা হল ভারতের শাসকেরা বাংলাদেশ বলতে শুধুমাত্র আওয়ালীগকেই বোঝে। কেন বিএনপি এবং জামায়াতকে দিল্লি এক বন্ধনীতে রেখেছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। ’
আলমগীর এই প্রসঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ এবং কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী, ‘জামায়াত আর বিএনপি এক নয়। আমরা অসাম্প্রদায়িক, মধ্যপন্থী একটি গণতান্ত্রিক দল। মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত সংবিধান রক্ষায় আজও আমরা স্বাধীনতা-বিরোধীদের সঙ্গে লড়াই করেছি। এখনও করছি। বামেরাও আমাদের সঙ্গে রয়েছে।’
পত্রিকার তরফ থেকে পাল্টা তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, গত ২৫ বছর ধরে জামায়াত আপনাদের শরিক। দুটো নাম তাই একসঙ্গে উচ্চারিত হয়। জবাবে আলমগীর বলেন, ‘এই ধারণাটাই ভুল। অথচ আওয়ামী লীগ এই অপপ্রচারটা ভারতকে বিশ্বাস করিয়েছে। জামায়াতে শুধু নির্বাচনী শরিক। তারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। আমরা করি না। আসলে আওয়ামীর চশমা দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে দেখেছে বলেই মস্ত ভুল করেছে। বাকিদের সঙ্গে দিল্লি যোগাযোগ রাখেনি। আজ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষোভের পাহাড় তীব্র ভারত –বিরোধিতায় পর্যবসিত হয়েছে। বিএনপির তরফ থেকে আশ্বাস দিচ্ছি, জামায়াতকে আর আমরা সুবিধে নিতে দেব না। আমরা চাই, ভারত সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখুক। ’
এই প্রসঙ্গে তিনি যে স্বপ্ন দেখেন সেটাও সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দিয়েছেন। মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেন, ‘আমরা কলকাতা যাব, কলেজ স্ট্রিট থেকে কত বই কিনেছি। আবার সেই সুযোগ পাব। সিনেমা, থিয়েটার দেখব।’
প্রশ্ন করা হয় ভোট এবং পিআর পদ্ধতি নিয়েও। মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেন, ‘পিআর, টিআর নয়, মানুষ যে পদ্ধতিতে ভোট বোঝেন, সেই পদ্ধতিতে ভোট হবে। জামায়াতও ভোটে অংশ নেবে। এনসিপিকে আমরা কোনও শক্তিই বলে মনে করি না। এটা ঠিক যে ছাত্ররাই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের বারুদে আগুনটা দিয়েছিল। এখন তাদের হাতে কিছু নেই। ডাকলে লোকও আসে না। ’
এই প্রসঙ্গে তিনি জামায়াতের আসন দাবির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেন, ‘ওরা ৩০টি আসন চেয়েছিল। আমরা উৎসাহ দেখায়নি। আমরা কটা আসন ছাড়তে রাজি আছি, সেটা ওদের জানিয়েছিলাম। ওদের সেটা পছন্দ হয়নি। আসলে ওরা যত বড় না শক্তি, তার থেকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। পিআর –টিআর সবই বিএনপির ওপর চাপ তৈরির কৌশল। জামায়াত কিন্তু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। আসলে দেশের মানুষ প্রবলভাবেই নির্বাচন চাইছেন। ভোট চাইছে সেনাবাহিনী এবং মহম্মদ ইউনূসের সরকার। ৫ অগাস্ট নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা করেছেন। তার আগের দিন ইউনূস সাহেবের বাসভবনে তাঁর সঙ্গে এবং সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ইউনূসও চাইছেন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি অব্যাহতি চাইছেন। আমরাও আশ্বাস দিয়েছি, সরকার গঠনের পরেও সংস্কার চলবে। স্বৈরাচারীদের বিচারপ্রক্রিয়াও চলবে। আমরা চাই, আওয়ামী লীগ, তাদের সব সরিক ভোটে অংশগ্রহণ করুক। ’












Discussion about this post