জাতিসঙ্ঘে ভাষণ দেবেন বলে নিউ ইয়র্ক গিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। তদারকি সরকারের প্রধান যাতে সেখানে নিশ্চিন্তে দিন কাটাতে না পারে, তার পাকা ব্যবস্থা করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ব্যবস্থা কেমন, তার একটা ঝলক ইউনূস এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীরা দেখে ফেলেছেন। আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জাতিসঙ্ঘে যেদিন ইউনূস ভাষণ দেবেন, সেদিন তারা বাইরে বিক্ষোভ দেখাবেন।
এদিকে, ইউনূস আর পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ইউনূস দিয়েছিলেন, সেই নির্দেশ তারা দায়সাড়া ভাবে পালন করছেন। পুলিশ বুঝে গিয়েছে, হাওয়া একেবারেই তাদের অনুকূলে নয়। বেশি বাড়াবাড়ি করলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের ধরে গা গরম করবেন। আর সেটা তাদের হজম করতে হবে।
এদিকে, যে সেনাকে নিয়ে ইউনূস ক্ষমতা দখল করেছিল, সেই ইউনূসের সঙ্গে সেনার সম্পর্ক শুরু থেকেই ছিল বেতালা। আর সময় যত গড়িয়েছে, সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত থেকে তিক্ততর হয়েছে। ইউনূস নিউ ইয়র্ক গিয়েছেন। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন আরও কয়েকজনকে। দেশে রয়েছে তার উপদেষ্ট পরিষদ। তারা এখন প্রমাদ গুনতে শুরু করেছেন। ধরে নেওয়া যেতে পারে, বাংলাদেশে ইউনূসের ফেরা প্রায় অনিশ্চিত। তাঁর সঙ্গে যারা গিয়েছেন, তারাও আর ফিরতে না পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে উপদেষ্টা পরিষদে যারা রয়েছেন, তাদের কী হবে? তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পুলিশের ওপর তাদের আর বিশ্বাস নেই। বিশ্বাস নেই সেনার ওপর। সেনা যদি বন্দুকের নল তাদের দিকে ঘুরিয়ে দেয়, তাহলে তো সাড়ে সর্বনাশ। ইউনূস খুব একটা স্বস্তি বা শান্তিতে নেই। শান্তিতে নেই উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। ইউনূস বুঝে গিয়েছেন, নিউ ইয়র্কে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে তাকে রক্ষা করার কোনও রাস্তা প্রশাসন বের করতে পারেনি। রাজনীতে একদা যারা তাঁর মিত্র দল ছিল, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক এখন আর আগের মতো নেই।
ইউনূসের সফরসঙ্গী হয়েছেন বিএনপি মির্জা ফখরুল আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহম্মদ তাহের, ড. নকিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দলের সিনিয়র যুগ্মসচিব তাসনিম জারা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। এরা সকলেই একই বিমানে আমেরিকা গিয়েছেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক পৌঁছাবেন। ইউনূসের সফর ১০ দিনের। আর এই ১০দিন যমুনা থাকছে অরক্ষিত। অরক্ষিত বলার কারণ, ইউনূস দেশে থাকতে থাকতে বুঝে গিয়েছেন আওয়ামী লীগ কতটা শক্তি ধরে। এখানে-ওখানে ঝটিকা মিছিল। সেই মিছিল পুলিশ আটকাতে চাইছে না। তাহলে তাঁর অবর্তমানে আওয়ামী লীগ যে আরও বড় আকারে মিটিং মিছিল বা সভা করবে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।
যমুনা রমনা জোনের অধীনে। সেখানকার দোর্দন্ডপ্রতাপ পুলিশকর্তার নাম মাসুদ। অথচ এই মাসুদের নাকের ডগার সামনে মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে ইউনূস কতটা অস্বস্তিতে। আর গোয়েন্দা দফতর থেকে তাঁকে একটি রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ভিতরে ভিতরে কতটা প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামীদিনে তারাও আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে। ফলে, ইউনূস এবং তার নিউ ইয়র্ক সফরসঙ্গীরা দেশে ফেরেন কি না, সেটা এখন লক্ষ টাকার প্রশ্ন।












Discussion about this post