এক দারুণ উদ্যোম জনসমর্থন নিয়েই পথ চলা শুরু হয়েছিল এনসিপির। বলা হচ্ছিল বাংলাদেশে বিএনপি জামাতকে ফাইট দেওয়ার একটা দল আত্মপ্রকাশ করল। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নানা সংকট ঘিরে ধরে দলটিকে। দল বেঁধে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পদত্যাগের খবর আসছিল আগে থেকেই। এবার শোনা যাচ্ছে দলের দুই শীর্ষনেতা তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সেই দুইজন কারা, তা নিয়ে বাংলাদেশে চলছে জোর জল্পনা। ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আত্মপ্রকাশ এই দুই নেতা জাতীয় রাজনীতির আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেন। বিরোধীদলগুলি ভেবেছিল এরা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন। আবার কেউ কেউ মনে করেছিলেন, নতুন শক্তি সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে এনসিপির জন্মের সময়ের দৃশ্যপট ছিল অভাবনীয়। এক বছরের মধ্যে সেই জায়গা দখল করেছে একরাশ হতাশা। এনসিপি নিজেদের আলাদা করে চেনাতে চেয়েছিল। তাদের মোটো ছিল বিএনপি এবং জামায়াতের বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরা। ক্ষমতাসীন দলে প্রতিদ্বন্দ্বী। এমনকী গণমাধ্যমের নেক নজরে ছিল তারা। এমনকী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনার বিষয় ছিল এনসিপি। দ্রুত তারা সংগঠন বিস্তারের দিকে নজর দিতে শুরু করে। দলের তরফ থেকে দেওয়া হয় প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করতে গিয়ে খেতে হচ্ছে হোচট। একদিকে অভিজ্ঞ নেতা কর্মীদের অভাব অন্যদিকে, ভিন্ন ভিন্ন আদর্শের নেতাকর্মীদের এক ছাতার তলায় আনতে গিয়ে দলের ভিতরে তৈরি হয় নানান মতভেদ।
সংকট আরও প্রকট হয় ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে। সূত্রের এনসিপির অনেকে দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের হয়ে কাজ করেছেন। নির্বাচনে এনসিপির ছাত্র সংগঠনের ব্যাপক ভরাডুবি ঘটে। দলের একাংশ কর্মীর মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। তাদের বক্তব্য কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারাও এই নিয়ে বিব্রত বোধ করেন। প্রকাশ্যে তারা বলেন, প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা সম্ভব নয়। তবে গোপনে তারা স্বীকার করেছেন, এই অভিযোগ সত্য হলে সেটা দলের জন্য ভয়ানক হবে। এই দ্বন্দ্ব শুধু নির্বাচনী কৌশলের নয়, বরং আদর্শগত সংকটের প্রকাশ। জাতীয় নির্বাচনে এনসিপির নেতারা জামায়াত বা বিএনপির হয়ে কাজ করবে কি না, তা নিয়েও দলের অন্দরে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে।
এনসিপি শুরু থেকে বলেছিল, তারা নতুন রাজনীতি করতে চায়। পুরনো ধারা থেকে বেরিয়ে এসে দলকে নতুন ধারায় চালিত করতে চায়। তারা বাংলাদেশের রাজনীতির বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি বা জামায়েত বা শিবিরের সঙ্গে দূরত্বের হিসেব করতে গিয়ে তাদের রাজনীতি জটিল হয়ে যাচ্ছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব গণমাধ্যমে বলেছেন এনসিপি একধরনের এক্সপেরিমেন্ট। এক ছাতার তলায় সমমনোভাবাপন্নদলগুলিকে এক ছাতার তলায় আনা হয়েছে। সেটা যতটা উদ্দীপনা তৈরি করেছিল, পরে সেটা ততটাই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় পর্যায়ে অনেকে নিজেদের সুবিধেমত অবস্থান নিয়েছেন। অনেকে সরাসরি পদত্যাগ করেছেন। এখন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দুইজন নেতা পদত্যাগ করেছেন। আরও একজন পদত্যাগ করতে চলেছেন। ফলে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বেও একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। এই অবস্থায় দলের এই হাল ব্যালটবাক্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এমনকী ভরাডুবি হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।












Discussion about this post