খেলা জমে গিয়েছে। যা দেখে চমকে উঠছেন, নিজের গায়ে চিমটি কাটছেন মহম্মদ ইউনূস, তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। এমনকী সেনাবাহিনী মনে মনে বলছে – যা শুনলাম সেটাই কি শুনলাম ? বাকিরাও যদি সেই কথা শোনা, তাহলে তারাও এক প্রশ্ন করবেন – যা শুনলাম সেটাই কি শুনলাম!
সুকুমার রায়ের কবিতা ধার করে বলতে হয় –
ঠাস্ ঠাস্ দ্রুম্ দ্রাম্, শুনে লাগে খট্কা ফুল ফোটে ? তাই বল ! আমি ভাবি পট্কা ! শাঁই শাঁই পন্পন্, ভয়ে কান বন্ধ— ওই বুঝি ছুটে যায় সে–ফুলের গন্ধ ? হুড়মুড় ধুপ্ধাপ্ – ওকি শুনি ভাই রে !
কী শোনা যাচ্ছে? বিএনপি চাইছে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করুক। কে বলছে সেটাও দেখতে হবে। বলছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর। শুনে খটকা লাগার মতো। এই বিএনপি যে কিনা কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের নাম শুনলে তেলে বেগুনে জ্বলে যেত, যে আওয়ামী লীগকে দিনে একবারও গালি না দিলে তাদের ভাত হজম হত না, রাতে ঘুম আসত না, তারা কি না বলছে – না না। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য দরজা খুলে দেওয়া হোক। হঠাৎ কেন চাইছে?
জামায়াত, জামায়াতপন্থী দল, তাদের শুভাকাঙ্খী সকলেই কিন্তু বিস্মিত। আর এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটস পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন। তারা তাদের পোস্টে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। কিন্তু কেন চাইছে বিএনপি আওয়ামী লীগকে?
আসলে বিএনপি এখন বুঝতে পারছে, তারা যে স্বপ্ন দেখেছিল, ইউনূস সরকার তাদের সেই স্বপ্ন পূরণের প্রধান বাধা হয়ে উঠছেন। এমনকী জামায়াতও তাদের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে। তাছাড়া সদ্য সমাপ্ত বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ফলাফল চূড়ান্ত হতাশাজনক। তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যেতে পারে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের একটা জোরাল সমর্থন রয়েছে। তাই বলে এতোদিন ধরে যারা বিএনপির সঙ্গে ছিল, তারা আচমকা গায়েব হয়ে গেল? এটা কোনওভাবেই বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। তবে বিএনপির গত এক বছরের কৃতকর্মের প্রভাব পড়েছে ভোটের বাক্সে। কিন্তু তাই বলে তারা একটি ভোটও পাবে না, সেটা হয় কী করে? বিএনপি যদি এখনও স্বপ্ন দেখে যে তারা ক্ষমতায় যাচ্ছে, তাহলে তারা মূর্খের রাজ্যে বাস করছেন।
আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো। জাতিসংঘে মহম্মদ ইউনূসের সফর। তিনি তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়ে গিয়েছেন। আর তার পরে মির্জা ফখরুল আলমগীর জানিয়ে দিলেন, তিনি এবং তাঁর দল চাইছে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করুক। অংশগ্রহণ করুক বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল। আর সেনাবাহিনী তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করুক।
তিনি বলেছেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হোক। তার জন্য তাঁকে অনেকে আওয়ামী লীগের দালাল বলছে। অনেকে ভারতের এজেন্ট বলছে। কিন্তু শেখ হাসিনার অপকর্ম আমরাও কেন করব? শেখ হাসিনা তাঁর প্রতিপক্ষকে টানা ১৫ বছর ভোটে দাঁড়াতে দেননি। তিনি তাঁর শাস্তি পেয়েছেন। একই কাজ করলে আমরাও তাঁর প্রতিফলন পাব। তবে মানুষ এত রক্ত দেখেছেন, এত প্রাণহানী দেখেছেন, তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ বিরোধীতা রয়েছে।
তাহলে কী মির্জা ফখরুল ইসলামের মন বদলে গেল? বদলে গেল বলা হলে ভুল বলা হবে। আসলে তাঁর বিলম্বিত বোধদয় হয়েছে।












Discussion about this post