গোপন বৈঠক করলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর। এই বৈঠকের খবর যাতে কোনওভাবেই ফাঁস না হয় তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল তিনপক্ষ। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের গতিপথ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার সিংহভাগ ছিল বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে। কীভাবে হবে, অর্থাৎ কী পদ্ধতিতে বাংলাদেশে ভোট হবে, কারা নেবে (বলা ভালো কাদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে), যদি কোনওভাবেই বাংলাদেশে ভোট না হয়, সে ক্ষেত্রে বিকল্প কী হবে, তা নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে। যেটা আরও বেশি করে গুরুত্বপূর্ণ, তা হল এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ভোট না হলে ইউনূস আর ক্ষমতায় থাকবেন না।
বৈঠক হয়েছিল যমুনাতে। বৈঠক হয় ৪ অগাস্ট। ওই দিন বেশ কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার বড় প্রমাণ পরের দিন ৫ অগাস্ট জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন মহম্মদ ইউনূস। সে দিন তিনি নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা করেন। ওই দিন বাংলাদেশ তথা বিশ্ব জানতে পারল আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন।
বৈঠকে কথা হয়েছে ভোটের সময় নিয়েও। সেনা চাইছে ভোট হোক ডিসেম্বরে। আর ইউনূস সরকার চাইছেন ফেব্রয়ারিতে। তবে সরকারের এই প্রস্তাবে সেনার তরফ থেকে কোনও আপত্তি তোলা হয়নি। তবে সেনাবাহিনী জানিয়ে দিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ভোট করাতেই হবে। অপর দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর জানিয়ে দিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ভোট করাতে না পারলে মহম্মদ ইউনূস ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াবেন।
ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন ‘পরিস্থিতি বদলেছে। দলের তরফ থেকে আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি এখন সর্বোচ্চ সিরিয়াস। আন্তরিকভাবেই ফেব্রুয়ারিতে ভোট চাইছেন। অগাস্টের ৫ তারিখ ইউনূস নির্বাচনের দিন ঘোষণা করলেন। তার আগের দিন রাতে ইউনূস সাহেবের বাসভবনে তাঁর ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আমার দীর্ঘ আলোচনা হয়।’
ভারতের ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল আলমগীরকে প্রশ্ন করা হয়, জাতীয় নির্বাচনে সব দল কি অংশগ্রহণ করতে পারবে? জবাবে আলমগীর বলেন, ‘আমরা বলেছি আওয়ামী লীগ, তাদের শরিক, এমনকী জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে অংশ নিক। একটা সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হোক।এ জন্য আমাকে আওয়ামীর দালাল, ভারতের এজেন্ট বলা হচ্ছে। হাসিনা ১৫ বছর প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতে দেননি। তার শাস্তি তারা পেয়েছেন। একই কাজ আমরা করলে আমরাও তার প্রতিফল পাব। তবু মানুষ এত রক্ত দেখেছেন, এত প্রাণহানি – তাদের মধ্যেও আওয়ামী বিরোধিতা কেন।’
আলমগীরকে প্রশ্ন করা হয়, জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুরের দিন বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি নেতৃত্বকে যমুনায় কেন ডেকে পাঠিয়েছিলেন ইউনূস? জবাবে আলমগীর বলেন, ‘সেদিন ইউনূস আমাদের একটা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। বার্তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। এক লাইনের। এক ধরনের ফাইনাল বেল বলতে পারেন। ইউনূস সেদিন আমাদের জানিয়ে দেন, ফেব্রুয়ারিতে ভোটের বাস ধরাতে না পারলে তিনি মার্চ থেকে আর থাকবেন না। এমন পরিস্থিতি যেন না হয় যে তিনি ভোটটাই করাতে পারলেন না।’
এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে ইউনূস বেশ মানসিক চাপে রয়েছে। আর সেই চাপের কথা তিনি স্বীকারও করেছেন। ফেব্রুয়ারিতে তিনি ভোটের বাস ধরাতে পারবেন তো?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post