জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েচেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানেও ভারত ও চিনকে জড়িয়ে ফের গুরুতর অভিযোগ তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর দাবি, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়াকে মোটা অঙ্কের অর্থ জুগিয়েছে মূলত ভারত ও চিন। সেই সঙ্গে তাঁর ফের দাবি, বিগত সাত মাসে।তিনি সাতটি যুদ্ধ থামিয়েছেন। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০ তম অধিবেশনে যোগ দেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বদলে নিউ ইয়র্ক গিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে এই অধিবেশনে জাননি রাশিয়া ও চিনের প্রেসিডেন্ট যথাক্রমে ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিংপিন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চিন ও ভারত রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রেখে এই যুদ্ধের প্রধান অর্থদাতা। এই বিষয়টি অমার্জনীয়।
পাশাপাশি তিনি বলেন, ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিও রাশিয়ান তেন ও গ্যাস আমাদানি খুব বেশি বন্ধ করেনি। আমি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জানতে পেরেছিলাম এবং আমি খুশি ছিলাম না। তারা নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থায়ন করছে। কেউ কখনও এই কথা শুনেছে? যদি রাশিয়া শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত না হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের কঠোর শুল্ক আরোপের জন্য প্রস্তুত হও। আমার বিশ্বাস, এতে খুব দ্রুত রক্তপাত বন্ধ হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলিকে এই ধরনের পদক্ষেপ কার্যকর করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প। ভারত ও চিন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পাল্টা কিছু এখনও বলেনি।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবারই প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় ভাষণ দিলেন। এর মধ্যেই তিনি ভারত-চিন-রাশিয়াকে নিশানা করলেন।
অন্যদিকে জানা যাচ্ছে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে সদ্য ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্গিও গোরের সঙ্গে বৈঠক করলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। পাশাপাশি তিনি বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গেও। জানা যাচ্ছে প্রায় এক দশক ধরে নিষ্কৃয় হয়ে থাকা সার্ককে পুনরায় চাঙ্গা করার আবদার জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। জানা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই আমেরিকার রাষ্ট্রদূত হিসেবে ভারতে নিযুক্ত হবেন গোর। পাশাপাশি মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষ রাষ্ট্রদূতও হবেন তিনি। তাই আগে থেকেই তাঁর সঙ্গে সার্ক নিয়ে কথা বলে আসলে পাকিস্তানের দিকটিই তুলে ধরতে চাইছেন ইউনুস। উল্লেখ্য বছর দশের আগে কাশ্মীরের উরিতে সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রেক্ষিতে ভারত কার্যত সার্ককে বয়কট করেছিল। তার পর থেকেই কার্যত নিস্কৃয় হয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়ার এই বহুজাতিক সংগঠন। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে এখনও পর্যন্ত মুহাম্মদ ইউনূস ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। এমনকি ধারেকাছেও যেতে পারেননি বলা চলে। যদিও যদিও ভারত-মার্কিন সম্পর্কে উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিউ ইয়র্কে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই দাবি করেছন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। হিন্দুস্থান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্তারও দাবি, গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন চললেও, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখনও অটুট রয়েছে। এমনকি আগামী বছরের শুরুতে কোয়াড সম্মেলনের দিনক্ষণও ঠিক করার ব্যাপারেও কথাবার্তা চলছে। উল্লেখ্য, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হল কোয়াডের সদস্য দেশ। ভারত এই মুহূর্তে কোয়াডকে কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে ব্রিকসের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটা ভয়ের কারণ। ফলে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যতই সার্ককে পুনর্জীবীত করার চেষ্টা করুন, সেটা আদৌ হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যতই চিন ও ভারতকে হুমকি দিক, তাতে নয়া নরেন্দ্র মোদি ও জিংপিন খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।












Discussion about this post