২০১৮ সালে ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত ৫.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির আওতায় রাশিয়া ২০২৬ সালের শুরুতেই আরও S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দেবে। সম্প্রতি কলকাতায় এক বড় ধরণের প্রতিরক্ষা সম্মেলন হয়ে গেল কলকাতায়। যার উদ্বোধন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি দুদিন কলকাতায় ছিলেন এবং আলাদা করে বৈঠক করেছেন ভারতের তিন বাহিনীর প্রধান এবং ইস্টার্ন কমান্ডের সামরিক অধিকর্তাদের সঙ্গে। যেটা জানা যাচ্ছে, এবারে কলকাতাও এস৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসছে। এটা ভারতের সামরিক পরিকল্পনার নিরিখে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
জানা গিয়েছে রাশিয়া ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতকে পাঁচটি অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বরাত নিয়েছিল। যার প্রথম। চালান ইতিমধ্যেই এসে গিয়েছে। আর সেটি বসছে কলকাতায়। এর আগে শিলিগুড়ি করিডর বা ভারতের চিকেন নেকে এস-৪০০ বসানো হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, কেন বাংলাদেশ সীমান্তে এই ধরণের উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমস বসেচ্ছে ভারতীয় সেনা? সূত্রের খবর, এটা একটা কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পাকিস্তান অপারেশন সিঁদুরের পর হুমকি দিয়েছিল, তাঁরা আক্রান্ত হলেই ভারতের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করবে। অর্থাৎ পাকিস্তান বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথম থেকেই পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে রয়েছেন। সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক শহরে জাতিসংঘের ৮০ তম সাধরলে সভায় অংশ নিতে গিয়েও মুহাম্মদ ইউনূস ঠিক বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে। ফলে এটা ভারতের পক্ষে অভ্যন্তরীণ হুমকি ছাড়া আর কিছু নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার ক্ষমতায় বসার পর ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন পরিস্থিতি এবারে স্বাভাবিক হবে। কারণ, জো বাইডেনের আমলেই ভারতবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছিল। কিন্তু নিজেকে নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ট বন্ধু দাবি করা ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক মাস পর থেকেই ভারতকে চাপে রাখতে শুরু করেন। বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ তিনি নেন, যা ভারতের বিপক্ষে যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কোনও একটি জায়গায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের সামরিক ঘাঁটি নির্মান করছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এবার চাইছে কলকাতায় এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইনস্টল করতে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। কারণ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ থেকে শুরু করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনীর কয়েকবার হুমকি দিয়ে রেখেছেন যে এবার ভারত যদি পাকিস্তানকে আক্রমণ করে তাহলে ভারতের পূর্ব প্রান্তও শান্ত থাকবে না। এর অর্থ হল, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করেও পাকিস্তান এবার ভারতকে আক্রমণ করতে পারে। এই কারণেই এবার কলকাতাকে সুরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় সেনা। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল কলকাতায় এসে গুরুত্বপূর্ণ সেনা সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা বাংলাদেশের জন্য একটা বিপদঘন্টি। যদি মুহাম্মদ ইউনূস বুঝতে পারেন তাহলে ভালো, না হলে বিপদ তাঁর মাথার উপর।












Discussion about this post