মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক যে খারাপ হয়েছে। এ কথা সকলেরই জানা। এবার নিজেও সে কথা স্বীকার করে নিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। তাও আবার নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে এই স্বীকারোক্তি তাঁর। পাশাপাশি তিনি ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয় দেওয়া নিয়েও বড় মন্তব্য করেছেন। নিউ ইয়র্ক সফরে গিয়ে এশিয়া সোসাইটি ও এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মুহম্মদ ইউনূস। সেখানে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন। আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে কথা বলতে গিয়েই ভারতের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুহম্মদ ইউনূস। তাঁর কথায়, ভারত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে, যিনি সব সমস্যা তৈরি করেছেন, তরুণদের হত্যা করেছেন। এটাই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার কারণ। এরপরই ভারতের নাম না নিয়েই তাঁর অভিযোগ, তা ছাড়া অপর পক্ষ থেকে ভুয়ো খবরও আসছে। এটা খুব খারাপ বিষয়।
মুহাম্মদ ইউনূস রসিকতার সুরে এই কথাগুলি বললেও ভারত থেকে কখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। যদিও এর আগে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছিল, বাংলাদেশের আন্দোলন নিয়ে ভারত কোনও প্রকার নাক গলায়নি। শুধুমাত্র হিংসা থামিয়ে, শান্তির বার্তা দিয়ে এসেছে। উল্লেখ্য, এর আগেও মুহাম্মদ ইউনূস চিনের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য ল্যান্ডলকড, তাই বাংলাদেশ হল সমুদ্রের রাজা। তিনি চিনকে আহ্বান করেন, যাতে তাঁরা বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করেন। সেবারও ভারত খুব কড়া কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। কেবলমাত্র বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা স্থগিত করে দিয়েছিল। এবার দেখার ভারত কোনও কড়া পদক্ষেপ নেয় কিনা। কারণ মুহাম্মদ ইউনূস বারবার ভারতকে উস্কে চলেছেন, যাতে নয়া দিল্লি কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেয়।
অন্য দিকে মুহাম্মদ ইউনূস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সার্জিও গোর ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি দিল্লি এসে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই আমেরিকার তাঁর সঙ্গে দেখা করে ভারতের বিরুদ্ধে কান ভাঙিয়েছেন মহম্মদ ইউনুস। একাধিক সূত্র জানা যাচ্ছে, মার্কিন এই কূটনৈতিককে ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচটি বিষয়ে নালিশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। তাঁর প্রধান অভিযোগ হল, গোটা বিশ্ব দেখেছে, মানুষ রাস্তায় নেমে এসে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করেছে। অথচ বাংলাদেশের পট পরিবর্তনকে স্বাগত জানায়নি ভারত। এছড়া, ভারত নাকি বাংলাদেশের জুলাই অগাস্ট বিপ্লবকে ইসলামিক বিপ্লব হিসাবে তুলে ধরছে। ভারতীয় মিডিয়া লাগাতার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। নানাভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে। সার্জিও গোরের কাছে ইউনূসের মূল নালিশ ছিল, বাংলাদেশে অস্থিরতার মূলে আছেন শেখ হাসিনা। তিনি দিল্লিতে বসে কলকাঠি নাড়ছেন। ভারত সরকার শুধু তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে তাই-ই নয়, তাঁর মুখ বন্ধ রাখার কোনও পদক্ষেপ করেনি। এও জানা যাচ্ছে, নিউ ইয়র্কে গিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠক করে একাধিক প্ল্যাটফর্মে সার্ক বা সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশন পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যা ভারতের অন্যতম আপত্তি। কুটনৈতিক মহল মনে করছেন, ইউনূসের আচরণ এবং ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উস্কানি মূলক মন্তব্য নিয়ে খুব শীঘ্রই কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে নয়া দিল্লি।












Discussion about this post