ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের দেওয়া সাক্ষাৎকার ঘিরে তোলপাড় বাংলাদেশ। সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেন, আমরা বলেছি আওয়ামি লিগ ও তাদের শরিকেরা সবাই, এমনকি জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে অংশ নিক। একটা সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হোক। এ জন্য অনেকে আমাকে ভারতের এজেন্ট, আওয়ামির দালাল বলে গালাগাল দিচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনার অপকর্ম আমরাও কেন করব? হাসিনা ১৫ বছর প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতেই দেননি, তার শাস্তি পেয়েছেন। একই কাজ করলে আমরাও তো প্রতিফল পাব। তবে মানুষ এত রক্ত দেখেছেন, এত প্রাণহানি— তাঁদের মধ্যে আওয়ামি-বিরোধিতা রয়েছে। তবে ভারত কেন জামায়াত এবং বিএনপিকে এক বন্ধনীতে ফেলেছে, তা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, মির্জা ফখরুলের এই সাক্ষাৎকার ঘিরে দলে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এমনিতেই মির্জা ফখরুল জিয়া গোষ্ঠীর লোক। তাই তারেক রহমান এবং তাঁর শিবিরের লোকেরা মির্জা ফখরুলকে একেবারেই পছন্দ করে না। তার ওপর ভারতের গণমাধ্যমকে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সহ সব রাজনৈতিক দলকে ভোট অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করায় তারেক রহমান শিবির রীতিমতো অসন্তুষ্ট।
এই সাক্ষাৎকারে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন মির্জা ফখরুল আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিএনপি আর জামায়াতকে মাথায় তুলবে না। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ৫০টা আসন চেয়েছিল। কিন্তু তারা ৩০টির বেশি আসন দিতে রাজি নয়। বিএনপি যে জামায়াতকে প্রয়োজনের থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল, সেটা মির্জা ফখরুল আলমগীর নির্দিধায় স্বীকার করে নিয়েছেন। ভারতের ওই পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলমগীর বলেন, ‘৩০টা চেয়েছে। আমরা উৎসাহ দেখাইনি। অনেক কম একটা সংখ্যার কথা বলেছি, যা তাদের মনঃপূত হয়নি। আপনাকে আশ্বাস দিচ্ছি, জামায়াতকে আর আমরা মাথায় উঠতে দেবো না। তারা যত বড় না শক্তি, আমরা অকারণে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। পিআর-টিআর সবই বিএনপির উপরে চাপ সৃষ্টির কৌশল। জামায়াত কিন্তু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছে। আসলে দেশের প্রবল ভাবেই মানুষ নির্বাচন চাইছেন। সেনাবাহিনী চাইছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও চাইছেন।’
রাজনৈতিক মহল বলছে, মির্জা মফরুল আলমগীরের বিলম্বিত বোধহয় হয়েছে। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে চলার যে মাশুল তাদের পদে পদে দিতে হয়েছে, সেটা এখন হাড়ে হা়ড়ে টের পাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিএনপি আশঙ্কা আসন্ন ভোটে জামায়াত তলে তলে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রক্সি দিতে পারে।
আসলে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বিরোধের কারণ আসন ভাগাভাগি। জামায়াত নিশ্চিত ছিল, তারা যে কটি আসন চাইবে বিএনপি তাদের সেই কটি আসন ছেড়ে দেবে। কিন্তু বিএনপি যে বিরোধিতা করতে পারে সেটা একবারের জন্য আন্দাজ করতে পারেনি। ফলে, জামায়াতের সঙ্গে তাদের এখন আকচা আকচি শুরু হয়েছে। এদিকে জামায়াত বলছে, আসন ভাগাভাগি নিয়ে তাদের সঙ্গে বিএনপির কোনও কথা হয়নি। এদিকে আবার বিএনপির তরফ থেকে বলা হয়েছে, মির্জা ফখরুল আলমগীর ভারতের গণমাধ্যম এই সময়-কে কোনও সাক্ষাৎকার দেয়নি।
বড় প্রশ্ন হল, কেন বিএনপি মহাসচিব ভারতের একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিলেন। এর আসল কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের একটা অবদান রয়েছে। আগামীদিনে বাংলাদেশের অভিমুখের ওপর ভিত্তি করে ভারত তাঁর ঘুঁটি সাজাবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post