জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টা। অন্যদিকে তার বক্তৃতা শুরু হওয়ার আগে এবং পরে জাতিসংঘের বাইরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে জামাত এবং বিএনপির প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে জমায়েতও লক্ষ্য করা গিয়েছে। এমনকি বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংঘর্ষ লক্ষ্য করা গিয়েছে। সব মিলিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ঘিরে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে দেশের অন্দরে। অনেকে বলছেন, দেশের অন্দরের সংঘর্ষ গোটা বিশ্ব দরবারে উন্মুক্ত হয়ে গেল। এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হল। আরও একবার প্রমাণিত হল, মুহাম্মুদ ইউনূসের দেশের পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে রাখতে পারেননি। যেখানে তার সামনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লেন তার দেশেরই দুই রাজনৈতিক দল।
জাতিসংঘের ভাষণে মুহাম্মদ ইউনূস একরকম তার সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে স্বৈরাচার সরকার ফিরবে না। অর্থাৎ শেখ হাসিনা সরকার যে আর ফিরবে না, সেটা কি তিনি বলতে চাইলেন? নাকি আর কোনও স্বৈর সরকার ফিরবে না, সেটা তিনি বলতে চাইলেন? অন্যদিকে তিনি বোঝাতে চাইলেন, তার সরকার সংস্কার বিষয়ক কাজ করছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনকে লক্ষ্য করে তারা কাজ করছে। অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি ক্ষমতা পেয়ে আকড়ে ধরে বসে নেই। বরং গোটা দেশটিকে একটি স্থায়ী সরকারের হাতে তিনি তুলে দিতে চান, সেটি বোঝাতে চাইছেন।
এমনকি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন যুদ্ধ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। সেই সময় তার সঙ্গে যাওয়া সফর সঙ্গীরা যেমন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ জামাত, এনসিপি নেতারা..তাদেরও ওই অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। ইউনূস যখন এমন বক্তব্য রাখেন, তখন জাতিসংঘের সামনে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ লক্ষ্য করা গিয়েছে। এমনকি সেখানে অনলাইন এক্টিভিস্ট নিঝুম মজুমদারকেও দেখা গিয়েছে। তিনি আগে থেকেই লাইভ করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি সেখানে উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সেক্রেটারি অদ্ভুত বক্তব্য লিখেছেন ফেসবুকে, যেটা নিঝুম মজুমদারকে ব্যাঙ্গ করেছেন তিনি। সরকারের একটি পদমর্যাদায় থাকা ব্যক্তিত্বের এমন মন্তব্য বহু সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের সামনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে-বিপক্ষে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের সমাবেশ শেষে সংঘর্ষে জড়ায় কর্মীরা। এতে ছাত্রলীগ কর্মী হৃদয় আহত হন। এই কারণে বিএনপির একাধিক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে অনেকে বলছেন, প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘে ভাষণ খুব একটা সুখকর হল না। উল্টে বিশ্ববাসীর কাছে বার্তা গেল, দেশের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তাদের সংঘাত কোন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটা দেশের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকবেই। কিন্তু বিদেশের মাটিতে সেটি উন্মুক্ত হয়ে যাবে, এটা মোটেই ভালো বার্তা বহন করে না। এখন দেখার, জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণের পর বাংলাদেশের অন্দরে কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post