সুকুমার রায়ের নোটবই কবিতা নিশ্চই সকলের জানা। সেখানে কয়েকটা লাইন এখানে তুলে ধরি –
কান করে কট্ কট্, ফোড়া করে টন্ টন্—/ওরে রামা ছুটে আয়, নিয়ে আয় লণ্ঠন। /কাল থেকে মনে মোর লেগে আছে খট্কা/ ঝোলাগুড় কিসে দেয়, সাবান না পট্কা ?//পেট কেন কাম্ড়ায়, বল দেখি পার কে ? বল দেখি ঝাঁজ কেন জোয়ানের আরকে ? /তেজপাতে তেজ কেন? / ঝাল কেন লঙ্কায় ? / নাক কেন ডাকে আর পিলে কেন চমকায় ?
ইউনূসের অবস্থা এখন খানিকটা তেমনই। সব ঘেটে ঘ। হাসিনাকে চ্যাংদোলা করে বিমানে তুলে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। দলের কেউ যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তাতেও নিশ্চিন্তে এক দণ্ড ঘুমোতে পারছেন না। হাসিনা ফোবিয়া তাঁকে তাড়া করে বেরাচ্ছে। তার আরও একবার প্রমাণ পাওয়া গেল। এবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কথা আর কী বলব? দেশের সবচেয়ে পুরনো দল হওয়ার পরেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা নিজেরাই নিজেদের মেরে ফেলেছে। সমস্ত চরিত্র বিলীন করে দিয়ে তারা একটি ফ্যাসিস্ট দলে পরিণত হয়েছে। ফলে জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাও তারা হারিয়েছে।”
দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন দলীয় সিদ্ধান্ত তিনি সমর্থন করেন না। খালেদ মহিউদ্দিনকে তিনি বলেন, আমি খুব পরিষ্কার করে বলি, এ ব্যাপারে অনেক কথা বলতে হয়েছে, শুনতে হয়েছে। এটা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক কথাবার্তা চলছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আগেও বলেছি, আমাদের চেয়ারম্যান এবং অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান সাহেবও বলেছেন যে, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। কিন্তু যদি সেই রাজনৈতিক দল কোনো গণহত্যার সঙ্গে জড়িত হয়, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে দেয়ার জন্য দায়ী হয় তাহলে নিশ্চয়ই তাদের শাস্তি পেতে হবে। আমি একটা রাজনৈতিক দল, আরেকটা রাজনৈতিক দলকে ব্যান করতে যাবো কেন? কিন্তু যদি সেই পার্টি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, প্রতারণা করে, গণহত্যা করে তাহলে অবশ্যই তার বিচার হতে হবে।’
সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গ উঠে আসে। সেই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল স্বীকার করে নেন জণগনের মাঝে আস্থাহীনতা রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘অবশ্যই নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। তবে মানুষের মধ্যে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, সেটি দূর করে বিশ্বাস সৃষ্টির জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।’
তদারকি সরকার প্রধানও যে নির্বাচন চাইছেন, সেটাও জানাতে দ্বিধা করেননি মির্জা ফখরুল। বলেন, ‘এই ব্যাপারে তিনি সহযোগিতা করছেন।বিশেষ করে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পর, এটা আপনারা নিশ্চিত হয়ে গেছেন। আমার দৃষ্টি থেকে যতটুকু দেখি, রাজনৈতিক দলগুলো জানে যে, নির্বাচন হবে। সেনাবাহিনীর অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও জানে যে, নির্বাচন হবে। কিন্তু একটা জিনিস মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশে সহজ সরল ব্যাপার নাই। এটা সবসময় একটা জটিলতার মধ্যে পড়েছে। যেকোনো কারণেই হোক আমাদের শত্রুরা বাংলাদেশকে একটা অস্থির অবস্থার মধ্যে রাখতে চেয়েছে।’












Discussion about this post