কোনও প্রস্তাবে সায় দিচ্ছেন না হাসিনা। তাকে দুটো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রথম প্রস্তাবে তাঁকে বলা হয়, তিনি আর কোনওভাবেই আওয়ামী লীগ সংগঠিত করতে পারবেন না। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ তাঁর বিপক্ষে চলে গিয়েছে। গণহত্যা হয়েছে। তার দায় কোনওভাবেই তিনি এড়াতে পারেন না। হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইবুন্যালে মামলা চলছে। অতি দ্রুত মামলার ফয়সাল হয়ে যাবে। এই অবস্থায় দেশে ফেরা তাঁর পক্ষে কঠিন। মিরাকল কিছু না ঘটলে অবস্থার পরিবর্তন অসম্ভব।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে হাসিনাকে বলা হয়েছে দল পরিচালনার দায়িত্ব তিনি অন্য কাউকে দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়াতে পারে। যেমনটা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। বাকশাল গঠন করে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ১৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর বাকশালের সমাপ্তি ঘটে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পুনরায় দল গঠনের সুযোগ দেন। সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংগঠিত হয়। তখন আপনি ভারতে ছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এখন তরুণদের হাতে নেতৃত্ব। বড় রাজনৈতিক দলগুলো চাইলেও আপনার ফেরানোর ব্যাপারে সায় দিতে পারবে না। দুটো পশ্চিমা শক্তি অতি সম্প্রতি এই প্রস্তাব দিয়ে হাসিনা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছে। এমনকী ভারতের অনেকেই মনে করছেন- এটাই এই মুহূর্তের বাস্তবতা। ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে রয়েছে প্রচণ্ড মতবিরোধ। কেউ কেউ বলছেন, হাসিনাকে রাখতে গিয়ে গোটা বাংলাদেশকেই আমরা হারিয়েছি। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনেক ঘটনাই ঘটে গেছে। বৃহৎ শক্তিও নেই আমাদের সঙ্গে। ভূ-রাজনৈতিক কারণটাও বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার মতও দিচ্ছেন অনেকে।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রফিকুল আলম বলেছেন, বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ভারত সরকারকে পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় সিদ্ধান্তেই এ কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারত এখনও কোনো উত্তর দেয়নি। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন যে কোনো মানুষের বিবেককে নাড়া দেবে। প্রতিবেশী ভারতও বিষয়টি আমলে নিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, শেখ হাসিনা একটি ছায়ার সঙ্গে লড়াই করছেন। তাঁর (হাসিনার) ধারণা ড. মহম্মদ ইউনূস চলে গেলে বাংলাদেশে তাঁর ফেরাটা খুব সহজ হবে। ঢাকায় অনেকে বলছেন, একটি রাজনৈতিক দল তাদের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রেখে চলেছে। অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের এক শীর্ষ নেতা ক্ষমা করার প্রসঙ্গটি সামনে আনেন। ৩ সেপ্টেম্বর ওই শীর্ষনেতা বলেন, আমরা প্রতিহিংসা, প্রতিরোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। রাজনৈতিকভাবে আমাদের ওপর যারা জুলুম করেছেন, তাদের আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি।
এদিকে, ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে ব্রিটিশ সাংবাদিক বেকি এন্ডারসন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্ন রাখেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো সাড়া মিলেছে কিনা? এর জবাবে ড. ইউনূস বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। হত্যা, গুম, নির্যাতন- কীভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশে শিক্ষার্থীদের গুলি করে মারা হয়েছে, সবকিছু প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। সবকিছু রেকর্ডে আছে এখন। সুতরাং আমাদের এখন কারও কাছে গিয়ে কী কী হয়েছে জানানোর প্রয়োজন নেই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post