কলকাতা-সহ এপার বাংলাজুড়ে সাজ সাজ রব। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে মেতে উঠেছে অপামর বাঙালি। ঠিক উল্টো চিত্র ওপার বাংলায়। মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা এই উৎসবের মধ্যে প্রবল আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যদিও গত বছরের তুলনায় এ বছর এক হাজারের বেশি পুজোমণ্ডপ বেড়েছে বাংলাদেশে। কারণ গতবছর এই সময় বাংলাদেশ ছিল এক মবের মূলুক। ইসলামপন্থী কট্টর সংগঠনগুলির একের পর এক ফতোয়ার জেরে বাংলাদেশে সে বার বহু পুজো কমিটি দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে পারেনি। তবে এ বছর পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টেছে। অন্তর্বর্তী সরকার একটু আগে থেকে উদ্যোগী হয়ে হিন্দুদের দুর্গোৎসব নিয়ে নানা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এমনকি পুজো শুরু কয়েকদিন আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া করার প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে যে মৌলবাদী শক্তিগুলির উত্থান বেড়েছে, তা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। দুর্গাপুজোর প্রাক মুহূর্তে বাংলাদেশের কুমিল্লা, কুষ্টিয়া, গাজীপুরের মতো এলাকায় একাধিক মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। কট্টরপন্থী দুষ্কৃতিরা বহু নির্মিয়মান মণ্ডপ ও প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। এর জেরে বিতর্কের মুখে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
তবে বিতর্ক ও আতঙ্কের মাঝেই বাংলাদেশে শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্গোৎসব। রাজধানী ঢাকা-সহ একাধিক শহর সেজে উঠেছে রঙিন আলোর মালায়। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পুজো উদযাপন পরিষদ মণ্ডপ, পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার এলাকায় বড় করে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন। জানা যাচ্ছে, তবে ঢাকায় এবছর ২৫৯টি মন্ডপে চলছে দুর্গাপুজো। যেখানে গত বছর ঢাকা মহানগরে ২৫২টি পুজো হয়েছিল। সেই হিসাবে এবার ঢাকা মহানগরে সাতটি পুজো বেশি হবে। এই উপলক্ষ্যে সব মণ্ডপে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জানা যায়, ঢাকা মহানগরের পলাশীর মোড়ের ঢাকেশ্বরী মন্দিরেই সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। এছাড়া রমনা কালীবাড়ি ও রামকৃষ্ণ মঠের পুজোতেও ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো।
এবারে পুজোর সময় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নিউ ইয়র্ক সফর করছেন। তাই তিনি আগেভাগেই পুজোর প্রস্তুতি দেখতে হাজির হয়েছিলেন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। সে সময় তিনি বিভিন্ন পুজো কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন। এবার নিউ ইয়র্ক থেকেই দিলেন শুভেচ্ছা বার্তা। যদিও কেউ কেউ দাবি করছেন, আগে থেকে রেকর্ড করে রাখা ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানানোর সময় তিনি ঐক্যের বার্তা দিলেন।
সেই সঙ্গে তিনি এও নির্দেশ দিয়েছেন, দুর্গাপুজোর সময় যাতে কেউ নাশকতার মাধ্যমে অশান্তির সৃষ্টি করতে না পারেন। এই বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা।
বাংলাদেশের দুর্গোৎসবকে নিরাপদ করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, আনসার বাহিনী ছাড়াও কোস্টগার্ড নেমে পড়েছে। কোস্টগার্ডের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আড়াইশোর বেশি পুজো মন্ডপের নিরাপত্তা দেখভাল করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
এখান থেকেই প্রশ্ন ওঠে, মুহাম্মদ ইউনূস যেখানে বারবার দাবি করে এসেছেন যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ। তাঁদের উপর কোনও ধরণের অত্যাচার হয়নি। সেখানে দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে কেন প্রায় ২ লক্ষ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করতে হবে। সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে উপকূলরক্ষী বাহিনীকেও দায়িত্ব দিতে হবে। এত কিছুর পরও কেন নাশকতার ভয় পাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আসলে যে ভাবে মৌলবাদী শক্তির উত্থান হয়েছে বাংলাদেশে, তাতে হিন্দুদের পুজো ঘিরে রয়েছে অনিশ্চিয়তার আহব।












Discussion about this post