অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সম্পদ কেন এখন রিজওয়ানা হাসানের পরিবারের মালিকানাধীন, সেই বিষয়টি স্পষ্ট করা। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী ২০১৪ সালে অপহৃত হওয়ার পর যেমন সারা দেশ রিজওয়ানা হাসান সামনে এল, তেমনই সামনে এল তার স্বামী এবি সিদ্দিকী। তখন জানা গিয়েছিল, এবি সিদ্দিক নারায়ণগঞ্জে হামিদ ফ্যাশনের নির্বাহী পরিচালক। এখন স্পষ্ট হয়েছে, যে সেই হামিদ ফ্যাশন হচ্ছে, নসরুল হামিদ বিপুর হামিদ ফ্যাশন। ২০১৪ সালে রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এবি সিদ্দিকী অপহৃত হওয়ার পর হইচই পরে যায় বাংলাদেশে। পরে অবশ্য তিনি ফিরে আসেন। সেই এবি সিদ্দিকীর স্ত্রী যখন উপদেষ্টা হয়েছেন তখন তিনি কুমিল্লার হোমনায় নির্বাচন করার জন্য জনসংযোগ শুরু করেছেন। এদিকে এর আগে রিজওয়ানা হাসান বলেছিলেন, তাদের কোনও সম্পত্তি তেমন ছিল না। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তাদের সম্পত্তির পরিমাণ হু হু করে বাড়ছে। যা ঘিরে রীতিমতো প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।
এর আগেও প্রশ্ন উঠেছিল, যিনি একজন গার্মেন্টস কারখানার নির্বাহী পরিচালক হিসাবে চাকরি করতেন এবং যার স্ত্রী সেই সময় সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, তার স্বামীকে তার নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অপহরণ করা হয়নি। পরে তিনি কীভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি নির্বাচন করার কথা ভাবছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বিভিন্ন সময় জনসংযোগ করছেন, সভা সমিতি করছেন। এবং এলাকায় যে পোস্টার ফেলা হচ্ছে, সেখানে লেখা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবি সিদ্দিকী কুমিল্লাবাসী প্রার্থী হিসাবে দেখতে চায়। এখন প্রশ্ন উঠছে, উপদেষ্টার স্বামী হয়ে উঠে তিনি কীভাবে চাকরিজীবী ব্যবসায়ী হয়ে উঠলেন? এখানে অনেকে বলছেন, এবি সিদ্দিকী যেহেতু নসরুল হামিদ বিপুর সঙ্গে একসঙ্গে একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, সেই সূত্রেই হামিদ ফ্যাশনে চাকরি করতেন, অনেকেই বলছিলেন, গত বছর ৫ই অগাস্টের পর থেকে বলছিলেন, এবি সিদ্দিকী বা উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী তিনি আসলে নসরুল হামিদ বিপুর নানা সম্পত্তি গুলি বেচা কেনার মধ্যস্থতা করছেন। এমনকি এই টাকা বিদেশে পাঠাচ্ছেন।
এদিকে একটি খবর সামনে এসেছে। যেখানে বলা হচ্ছে, রাজধানীর গুলশান ক্লাবের ঠিক উল্টোপাশে অনেকটা ফাঁকা পড়ে আছে বড় একটি প্লট। গুলশান ২ এর মত অভিজাত এলাকায় এক বিঘার ফাঁকা ব্লক আর নেই। বর্তমানে বাজার মূল্য অনুযায়ী এর দাম অন্তত ২০০ কোটি টাকা। এই সম্পত্তির মালিক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানি ও গণিত সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ বিপু। দুমাস ধরে এই জায়গাটি বিক্রির চেষ্টা চলছে। গুলশানের মূল্যবান এই প্লাটি পাশাপাশি রাজধানীর মাদানী এভিনিউর ১০০ ফুট রাস্তার পাশেও নজরুল হামিদের রয়েছে ৫ বিঘে জমি। তবে এত বড় জায়গা একসঙ্গে কেনার মত গ্রাহক না পাওয়ায় ছোট ব্লক আকারে বিক্রি তৎপরতা চালাচ্ছে নজরুল হামিদের কোম্পানি হামিদ রিয়েল এসেট। এমনকি খবর রয়েছে, হামিদ সোয়েটার লিমিটেড এই কারখানাটি এখন বিপু ও তার মালিকানাধীন থেকে চলে এসেছে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এবি সিদ্দিকী এবং তার পুত্র আহমেদ জহির সিদ্দিকীর নামে। যেটা একটি অনুসন্ধানী রুপোর্টে উঠে এসেছে। এখানেও প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, সেই সম্পত্তি কিভাবে তাদের নামে হল?
এমনকি যখন রিজওয়ানা হাসানের স্বামী অপহরণ হলেন, তারপর আর তার সেই অভিজ্ঞতার কথা কোথাও তিনি শেয়ার করেননি। কারা তারকে অপহরণ করল, সেই নিয়েও তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। এমনকি এখন অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে গুম কমিশন করা হয়েছে, এখনও এই নিয়ে কোনও কথা বললেননি রিজওয়ানা হাসান বা তার স্বামী। এখানেও অনেকে কৌতূহল প্রকাশ করছেন। ফলে তাদের এই সম্পত্তির উত্তোরত্তর বৃদ্ধি নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক অন্যদিকে অনেকেই এর উত্তর খুঁজে পেয়েছেন, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলেনি অন্তবর্তীকালীন সরকার। কারণ রিজওয়ানা হাসান একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা।












Discussion about this post