কিছুদিন আগে মাহফুজ আলম সাংবাদিক সম্মেলন করে তদারকি সরকারের বিরুদ্ধে বোমা ফাটিয়েছিলেন। বলেছিলেন, মে মাস থেকেই অনেকে আমাদের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। তাই, গত দুই মাস ধরে অপেক্ষায় আছি কখন নেমে যাব। আমি খুব কম সময়ের জন্য দায়িত্ব নিয়েছি। স্বল্প সময়ে যে টুকু করা সম্ভব করেছি। তবে আমাদের বয়স ও অভিজ্ঞতা কম। জনগণ নিশ্চই এ জন্য আমাদের ক্ষমা করবেন। মাহফুজ আলম আরও বলেন, আমলারা এখন পরবর্তী সরকারের জন্য অপেক্ষায় আছেন।
এই বক্তব্যের মধ্যে দুটি বিষয় স্পষ্ট। এক মাহফুজ আলম বুঝে গিয়েছেন তাদের বিদায় ঘণ্টি বেজে গিয়েছে। আমলারা এখন আর তাদের চাইছে না। একটা দেশ চালাতে গেলে যে সময়ের দরকার হয়, সেই সময় তারা পায়নি। তাই, এই সময়ের মধ্যে যতটুকু তাঁর বা তাঁর সরকারের পক্ষে করা সম্ভব তারা সেটা করেছেন। যে কাজ বাকি রয়ে গেল তার জন্য নিশ্চই জনগণ ক্ষমা করবে।
মাহফুজের এই স্বীকারোক্তি কিন্তু কোনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নয়, সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি তাঁর বক্তব্য পেশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ এটাও যে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে তাঁর বক্তব্য রেখেছেন। গুরুত্বপূর্ণ বলতে হচ্ছে কারণ, সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করলে সেটা মুছে ফেলা যায় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনও কিছু পোস্ট করলে সেটা সম্ভব। তাঁর এই বক্তব্য থেকে আরও একটা বিষয় স্পষ্ট যে তিনি কিছুটা হলেও হতাশায় ভুগছেন।
আসলে মন্ত্রিসভার ভিতরেও আরও একটি মিনি মন্ত্রিসভা আছে, যাদের অনুমতি ছাড়া কারও পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়। তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কোন কাজ করা যাবে কোন কাজ করা যাবে না। তারা বৈঠক করছেন। অথচ মাহফুজ আলম ডাক পাচ্ছেন না। যেদিন এই খবর লেখা হচ্ছে, ঠিক তার আগের দিন মাহফুজ আলম বিস্ফোরক বিবৃতি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘তদবিরের কথা উঠল যখন তখন একটা ঘটনা বলি। আমাদের এক বন্ধু একজন ব্যক্তিকে আমার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করায়। বিটিভির একটি টেন্ডারের কাজ করে দিলে তারা পার্সেন্টেজ দিবে এবং জুলাই নিয়ে কয়েকটি দেশে প্রোগ্রামের জন্য হেল্প করবে। আমি জানার পর সেটা নিষেধ করে দিই। সদু্দ্দেশ্য হলেও রাষ্ট্রের আমানতে খেয়ানত করা যাবে না। পরবর্তীতে টেন্ডারের কাজ স্থগিত হয়।’
এর পর নিজের পোস্টে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘আজকাল অনেকের লেজকাটা যাচ্ছে বলে আমার বিরুদ্ধে লেগেছেন। নূতন একটি দলের কয়েকজন মহারথী এতে জড়িত। সবই প্রকাশ পাবে। একটা সার্কেলে প্রায় সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত। কিন্তু একজন কোনো টাকা ধরছেন না। এটা কার সহ্য হবে। ’
কথোপকথন রেকর্ড করে ফাঁসানোর প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম লিখেছেন, সে ব্যক্তি কনভারসেশন রেকর্ড করে একজন সাংবাদিককে পাঠায়। সে সাংবাদিক যোগাযোগ করলে আমি বলে দিই – ভাই, আমরা এই কাজ করতে দেইনি। আর এই লোককে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে জুলাইয়ের প্রোগ্রামের কথা বলে এ কাজ করছে। উনি আমার কথা বিশ্বাস করে আর রেকর্ডটি পাবলিক করেননি।’
পোস্টের শেষে পুনশ্চ লিখে তিনি যোগ করেন, আমার নিকৃষ্ট শত্রুরা গত ১২ মাসে আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ করলেও দুর্নীতি বা আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ করেননি।’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post