জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপির বিকল্প হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে জামায়াতে-ই-ইসলামি। বিশেষ করে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে শিবিরের জয়ের পর দলটিকে ঘিরে নানা মহলে কৌতুহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক অঙ্গনে এই প্রসঙ্গ গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ে তাদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন প্রবীণ সাংবাদিক অনমিত্র সেনগুপ্ত। প্রতিবেদনে মার্কিন কনস্যুলেটের প্রাক্তন এক কূটনীতিকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। যদিও কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করা হয়নি ওই প্রতিবেদনে। প্রশ্ন ছিল কেন জামায়াতে-ই-ইসলামি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এত গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। জবাবে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। কূটনীতিক বলেন, জামায়াতে অনেক উচ্চশিক্ষিত। দলটি বাণিজ্যিকভাবে সফল। তাই, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। জামায়াতের নেতারা ম্যান্ডারাস বা আচরণগতভাবে ভদ্র ও সুন্দর। তাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। কূটনৈতিক দিক থেকে এর গুরুত্ব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জামায়াতকে পছন্দ করার অন্যতম কারণ দলটিকে বাংলাদেশের প্রধান শাসকদলগুলির হাতে নির্যাতিত এবং মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হিসেবে একটি ইতিহাস অংশ দেখা হয়। বিশেষ করে স্বাধীনতা সময়কার বিরোধিতার প্রেক্ষাপট থেকে। এই বঞ্চিত ইমেজ কূটনীতিকদের ভাষায় তাদের সহানুভূতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রাক্তন কূটনীতিক বলেন, জামায়াতকে একেবারে দূর অতীত বা তালিবান ধাঁচের মতো অত্যন্ত রক্ষণশীল দল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাদের কিছু প্রগতিশীল দিকও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে তারা নিয়ন্ত্রিত বা শৃঙ্খলাবদ্ধ ইসলামি শক্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বছরখানিক ধরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে জামায়াতের পুনরুজ্জীবনের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে—বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে দলটির ছাত্র সংগঠন শিবিরের সাফল্যের পর আলোচনা তীব্র হয়েছে। এসব বিজয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ও কূটনৈতিক কচকচানিতে নতুন কৌতূহল জন্মেছে; সে প্রেক্ষিতে বিদেশি কূটনীতিকের মন্তব্য আরেকটু তাত্পর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনের সব দিকই ভিত্তি করে ‘এই সময়’ এর রিপোর্ট ও ওই কূটনীতিকের ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরা হয়েছে; এটি কোনও সরকার বা দেশের নীতি অফিশিয়াল বিবৃতি নয়। কূটনীতিকের নাম সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেনি; তাই প্রতিবেদনটি একটি পরোক্ষ কূটনৈতিক মাত্রামাপ হিসেবে পাঠ্য হওয়া উচিত—অর্থাৎ এটি রিপোর্টেই প্রতিফলিত থাকা মতামত, বাস্তবিক সমর্থন বা নীতি ঘোষণার বিকল্প নয়। জামায়াতকে ঘিরে বাংলাদেশি রাজনৈতিক মঞ্চে তীব্র আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নজরও বাড়ছে—এমন সময়ে সাংবাদিক তদন্ত ও স্বচ্ছ তথ্যাদি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ‘এই সময়’ এর প্রতিবেদনে উঠে আসা কূটনৈতিক ব্যাখ্যা একদিকে বিশ্লেষণাত্মক দিক উন্মোচন করলেও, বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত ও বিষয়ভিত্তিক প্রমাণাদি দরকার হিসেবে থেকে যায়।
প্রাক্তন ওই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর তৈরি অরাজকতার প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার গঠনে সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছে জামায়াত। যদিও দলটি জানে এককভাবে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের ক্ষমতা তাদের নেই। তাই তারা চাইছে অন্য কোনও দলের সঙ্গে জোট গঠন করে ক্ষমতায় আসীন হতে। প্রাক্তন ওই মার্কিন কূটনীতিকের বক্তব্য অনুযায়ী, যে দেশে ৮০-৮৫ শতাংশ মানুষ মুসলমান, সেখানে জামায়াত সরকারে এলে ক্ষতি কী। তারা একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দল। একবার তাদের সুযোগ দেওয়া হোক। দেশ চালাতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের মানুষ তাদের সরিয়ে দেবে।












Discussion about this post