বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বেশ কয়েকবার দিল্লির আশ্রয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করেন। অপরদিকে তারা ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। মূলত ভারতের ‘জেমস বন্ড’ অজিত ডোভালের জন্যই তা সম্ভব হয়েছে। সূত্রের খবর, ওয়াকারের সঙ্গে হাসিনারও কথা হয়েছে। হাসিনা ওয়াকারকে বলেছেন, যা করবা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা কইরা করবা (যাই কিছু কর না কেন, ভবিষ্যতের জন্য চিন্তা করেই করবে)। এই সব কিন্তু ক্যান্টনমেন্টের বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন হল কী সেই ইঙ্গিত।
বাংলাদেশে কান পাতলে শোনা যাবে একটাই কথা – এক বছর হয়ে গেল সেনাবাহিনী কোনও পদক্ষেপ করছে না। হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দিল্লির সাউথব্লক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যে ভূমিকায় দেখবে বলে দেশবাসী আশা করেছিল, তাদের ততটা সক্রিয় ভাবে দেখা যাচ্ছে না। তাহলে কী সেনাবাহিনী হাত গুটিয়ে রেখেছ।
একেবারেই নয়। তাদের সক্রিয় থাকার ইচ্ছা না হলে তারা ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল দ্বিবেদীর সঙ্গে কথা বলত না। সেনাপ্রধান ওয়াকারের সাম্প্রতিক ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে উত্তরপাড়া থেকে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলে রাখা ভাল। সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করলে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসাটা অনেক সহজ হবে। আর সেটা না হলে কি হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না।
অবশ্যই পারবেন। তবে সেটা অত সহজ হবে না যতটা সহজ হবে সেনাবাহিনী ইউনূসের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিলে। ইউনূস কিন্তু কোনওভাবেই চাইবে না হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসুক। চাইবে না বিএনপি এবং জামায়াত। নিজেদের মধ্যে বহু বিষয়ে মতের অমিল হলে এই একটি বিষয়ে তারা কিন্তু এক বিন্দুতে। এখন প্রশ্ন হল ভারত-চিন এবং আন্তর্জাতিকমহল কি বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে বোঝাতে পেরেছে যে হাসিনাতেই তাদের মঙ্গল। হাসিনা দেশে ফিরলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হবে। চেনা-পরিচিত সেই বাংলাদেশকে বিশ্ব দেখতে পারবে, যেমনটা ছিল হাসিনার আমলে।
বাংলাদেশ এবং সে দেশের সেনাবাহিনীকে নিয়ে বহু যদি-কিন্তু শোনা যাচ্ছে। সেনাবাহিনীকে আগে যতটা প্রকাশ্যে তাদের সক্রিয়তা দেখা যেত, এখন কিন্তু তেমন সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। তার অর্থ এটা নয়, যে তারা একেবারে চুপ করে আছে। তারা কিন্তু তলে তলে তাদের কাজ করে যাচ্ছে, যেটা ইউনূস জানতেও পারছে না। বা ইউনূসকে তারা জানতে দিতে চায় না। বিএনপি-জামায়াত এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি কিন্ত চায় না সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করুক। তাহলে তারা যে স্বপ্ন দেখেছিল, সেই স্বপ্ন আর কোনওদিন বাস্তবায়িত হবে না। তাই, সেনাবাহিনীকে তারা সব সময় চাপে রাখার চেষ্টা করছে।
তারা বেশ কয়েকটি নীল নকসা তৈরি করে রেখেছে। একটা নকসা কার্যকর করতে তারা ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় নকশা কার্যকর করার চেষ্টা করবে। সেনাবাহিনী যেমন নিজেদের তৈরি করছে, আওয়ামী লীগও কিন্তু নিজেদের গুছিয়ে নিতে শুরু করেছে। তাই, সাততাড়াতাড়ি কিছু একটা নজরে হয়তো নাও পড়তে পারে। কিন্তু আজ অথবা কাল কিন্তু বাংলাদেশ সাক্ষী থাকবে এক অন্যরকম সেনাবাহিনীকে দেখতে। হাসিনা যে বাংলাদেশে ফিরবেন আজ অথবা কাল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।












Discussion about this post