শান্ত, সবুজ পাহাড়ের কোলে ছোট্ট একটা অঞ্চল আচমকাই তেতে উঠল। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি মহল অনুষ্ঠানটি ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘খাগড়াছড়ির ঘটনাটি ভারতের ইন্ধনে ঘটছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, একটি মহল খাগড়াছড়িতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। ভারত বা ফ্যাসিস্টদের ইন্ধনে এই ঘটনা ঘটছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা ঘটনাস্থলে আছেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’ কিন্তু কিসের ভিত্তিতে তিনি ভারতের দিকে আঙুল তুলেছেন, তা কিন্তু প্রকাশ করতে বা জানাতে পারেননি।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালা এলাকায় এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ শয়ন শীল নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে। যদিও তাকে গ্রেফতার করার পরেও ইউপিডিএফ-য়ের অঙ্গ সংগঠন পিসিপি নেতা উখ্যানু মারমা জুম্ম ছাত্র জনতার ব্যানারে গত ২৪ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ বন্ধনের ডাক দেয়। পরের দিন খাগড়াছড়িতে অর্ধবেলা হরতাল পালিত হয়। গুলিতে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে তাদের পরিচয় জানা গিয়েছে। এরা হলে তৈইচিং মারমা (২০), আথ্রুইপ্রু মারমা (২১), আখ্রাউ মারমা (২২)।
সোমবার দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তদারকি সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে সনাতনপন্থী ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় উৎসব চলছে। উৎসব শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই উৎসব ভালোভাবে, ধর্মীয় উদ্দীপনায় এবং উৎসবমুখরভাবে যাতে হতে না পারে, তার জন্য একটা মহল থেকে চেষ্টা চলছে। ’ তাঁর কথায়, সেই মহলই খাগড়াছড়িতে এই ধরনের উস্কানিমূলক, প্ররোচনামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের পার্বত্য এলাকার উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ওই এলাকায় আছেন। তিনি বিষয়টি দেখছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।’
এদিকে, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান আরাকান সেনার পক্ষ নিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে ‘বৈশ্বিক শরণার্থী ও রাজনৈতিক আশ্রয় ব্যবস্থা: কী ভুল হয়েছে এবং কীভাবে ঠিক করা যায়’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আরাকান আর্মি বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগণের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এই সংঘাত যা এতদিন পর্যন্ত ছিল পাহাড়ের জাতিগত সংঘাত আর ভূমির লড়াই, তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে আঞ্চলিক ভূয়ো রাজনীতি।
এদিকে, খাগড়াছড়ির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি সংগঠনের নেতাদের বৈঠক হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির আবহে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জারি করা হয় শনিবার। তা এখনও বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহাসড়কে যে অবরোধ চলছিল, তা শিথিল করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্যের কারণ হাসিনাকে নিয়ে দিল্লির সক্রিয়তা।












Discussion about this post