জুলাই সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড মাহফুজ আলম, যাকে স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস গত বছর গোটা বিশ্বকে চিনিয়ে দিয়েছিলেন। সেই মাহফুজের মুখে এখন উল্টো সুর। মাহফুজ আলম আবারও মুখ খুলেছেন, কিন্তু এখন তাঁর কথায় ফুটে উঠছে এক ভয়াবহ চক্রান্তের গন্ধ। গত রবিবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সেখানে তিনি বলেছেন, বিগত দুই মাস ধরে উপদেষ্টা পদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। রাজনৈতিক দলগুলো মে মাস থেকে ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগ দাবি করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অর্থাৎ, নিজের উপদেষ্টা পদ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়ে দিলেন মাহফুজ আলম। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা তাঁদের ব্যর্থতা, কিন্তু মাহফুজ সেটা অন্য মোড়কে হাজির করতে চাইলেন। প্রসঙ্গত ওই অনুষ্ঠানে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অভিযোগ করে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রশাসনিক জায়গাগুলোতে তাদের লোক নিয়োগ করিয়েছে। এই নিয়োগ শেষ হওয়ার পরপরই ডিসেম্বর মাস থেকে তারা অসহযোগ শুরু করে দিয়েছে।
মাহফুজ আলমের এই বক্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল শোরগোল ফেলে দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, মাহফুজ আসলে সুকৌশলে নির্বাচন পিছোনোর পায়তাড়া কষছেন। কারণ, তিনি বলেছেন, এত কম সময়ে সব ধরণের সংস্কার করা সম্ভব নয়। মাহফুজ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে সবাই গোষ্ঠীস্বার্থের জন্য কাজ করে। জাতীয় স্বার্থ দেখে না। সামগ্রিকভাবে কোন জিনিসটা করলে একটা ভালো আইন পাওয়া যাবে, ভালো একটা নীতি পাওয়া যাবে সে বিষয়ে কেউ আগ্রহী নয়।
মাহফুজের আক্ষেপ, সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইনের খসড়া থেকে শুরু করে বিল আকারে পাস হওয়া পর্যন্ত ১৮টি ধাপ রয়েছে। দুই মাস আগে প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দিলেও সেটি এখনো দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। মাহফুজের কথায়, যেখানে বাকি উপদেষ্টারা গত বছরের আগস্ট মাসে দায়িত্ব নিয়েও বুঝে উঠতে পারছেন না কী করবেন, সেখানে তিনি এমন সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যে পরদিন তাকে উপদেষ্টা পদ ছাড়তে হয় কি না, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, মাহফুজের মধ্যে হয় ভয় বাসা বেঁধেছে, না হয় তিনি আরও এক গভীর চক্রান্তের ইঙ্গিত দিলেন। যে চক্রান্তে এর আগে জুলাই অভ্যুত্থান দেখেছিল বাংলাদেশ। এবার আরও একটা চক্রান্ত করে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন ভেস্তে দিতে চাইছে একটা অংশ। মাহফুজ তাঁদেরই প্রতিনিধি। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একটি অংশ মনে করছেন, মাহফুজ আগে থেকেই আন্দাজ করতে পেরেছেন, বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয় তাঁদের। খুব শীঘ্রই একটা কিছু ঘটতে পারে বাংলাদেশে। ফলে আগেভাগেই সাফাই গাইছেন জুলাই অভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড মাহফুজ আলম।












Discussion about this post