জাতিসংঘে বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস এর ঘোষণায় যদি কাদাপানি না থাকে এবং বরিশালে প্রধান আইনি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এর বলা কথায় যদি না কোনো চোনা থাকে তাহলে বাংলাদেশে বহু প্রার্থীত সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনও চায় দেশে দ্রুত নির্বাচন হক এবং স্থায়ী একটি সরকার গঠিত হক। আসিফ নজরুল বরিশালের একটি পুজো মণ্ডপ পরিদর্শনের পর দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল,পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ সম্পর্কে যে কথা বলেছেন তা প্রানিধান যোগ্য। প্রধান আইনি উপদেষ্টা বলেন — আওয়ামী লিগ এর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। তাঁর ধারণা নির্বাচনের আগে এই নিষেধাজ্ঞা ওঠার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা নির্বাচনে অংশও নিতে পারবেনা। নিউ ইয়র্ক এ দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে দেশে বিদেশে যে জল্পনা ছড়িয়েছে সেই সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়েই প্রধান আইনি উপদেষ্টা ওই কথা বলেছেন। আওয়ামী লিগ এবং তার শাখা সংগঠন ছাত্র লিগ এর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এর ফলে আওয়ামী লিগ ও ছাত্র লিগ কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ করতে পারবে না। তারা দেশের কোনো রাজনৈতিক ক্রিয়া কলাপ এ অংশ নিতে পারবে না। ফলত দেশের বৃহত্তম নির্বাচনে অংশ তারা নিতে পারছেনা। কিন্তু, যে দলটি ক্ষমতায় ছিল তাদের বাদ রেখে নির্বাচন করা কি সম্ভব? এ যেন ভারতে ক্ষমতাসিন বিজেপি এবং আখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ কে বাইরে রেখে সাধারণ নির্বাচন করার মতো ঘটনা। এটা ঠিক যে শেখ হাসিনা ২০২৩ এর একটি গণ বিক্ষোভ এর জেরে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বৈষ্যম্য চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু, তারপর পদ্মা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। দেশে তদারকি সরকার গঠিত হয়েছে । নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে তদারকি সরকারের প্রধান করা আওয়ামী লিগ ও ছাত্র লিগ এই কার্যকলাপ এ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কিন্তু, আওয়ামী লিগ এবং ছাত্র লিগ চোরাগোপ্তা সমাবেশও করছে।
এমনকি প্রকাশ্যে তাদের রাজনৈতিক মিছিল করতে দেখাও যাচ্ছে।আওয়ামী লিগ বিরোধী বিএনপি, জামাত কিংবা বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা যতই এই সব মিছিলকে দৌড় প্রতিযোগিতা বলে ব্যাঙ্গ করুক — আওয়ামী লিগ কিংবা শেখ হাসিনার সমর্থক এর কিন্তু অভাব নেই বাংলাদেশে। একটি প্রচার চলছে বাশে যে শেখ হাসিনা নাকি দলের অন্য নেতাদের বাঘের পিঠে সওয়ার করিয়ে নিজে নিরাপদে ভারতে বসে আছেন। এই গোষ্ঠী হাসিনাকে এত ভয় পাচ্ছেন কিংবা সমীহ করছেন যে তাঁরা বিকল্প প্রস্তাবও দিচ্ছেন হাসিনাকে যদি তিনি আওয়ামী লিগ এর চেয়ারপার্সন এর পদ ছেড়ে অন্য কাউকে এই পদে বসান। হাসিনা বাংলাদেশে নেই তাতেই এই অবস্থা, তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলে কি অবস্থা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। তাই আওয়ামী লিগ কে বাদ রেখে দেশে সাধারণ নির্বাচন করা কিংবা জাতীয় সংসদ গঠন করাটা সোনার পাথর বাটি মার্কা হয়ে যাবেনাতো? জাতির একদা পিতা বলে খ্যাত শেখ মুজিব এর ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে যেদিন বিস্ফোরক হামলা হল সেদিনই কি আওয়ামী লিগ তাদের পায়ের তলার হারানো মাটি অনেকটাই পুনরুধার করেছিল? রাজনৌতিক পর্যবেক্ষকরা এই বিষয়ে ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। বাস্তব অবস্থা হল – আওয়ামী লিগ কে বাদ রেখে বাংলাদেশে নির্বাচন সম্ভব নয়। আর এই কথাটি বোধহয় প্রথম যিনি অনুধাবন করতে পেরেছেন তাঁর নাম মুহাম্মদ ইউনূস!একে হাসিনা তোসর অন্যদিকে নির্বাচনের আগেই দেশে ফিরবেন বিএনপির চেয়ারম্যান খালেদা জিয়া এবং প্রয়াত জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান। লন্ডনে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এই কথা জানিয়েছেন তারেক রহমান।তারেক রহমান যিনি তারেক জিয়া নামেই সমধিক পরিচিত সাক্ষাৎকার টিতে বলেছেন যে নানাবিধ কারণে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি। এবার নির্বাচনের আগে বি এন পির কার্যকরী চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কর্তব্য দেশে ফেরা। সাক্ষাৎকার টিতে তারেক বলেছেন যে ২০০৮ সাল থেকে সতেরো বছর তিনি লন্ডনে আছেন। এই ইউ কে তাঁকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে, সাavrমাজিক সম্মান দিয়েছে -তা তিনি ভুলতে পারেন না। তবে, দেশের রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তারেক জিয়া দ্রুত দেশে ফিরতে চান। উল্লেখযোগ্য যে ২০০৮ সালে তারেক রহমান লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান আওয়ামী লিগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী যথাক্রমে জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার পুত্রর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আসে ক্ষমতা অপব্যাবহারের। তিনি আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। হাওয়া ভবন কেলেঙ্কারি তার অন্যতম। এছাড়াও বেআইনি সম্পদ এর অধিকারী তিনি এই মামলাও আনা হয়। ২০০৪ সালে আওয়ামী লিগ এর একটি সভা স্থলে আওয়ামী লিগ প্রধান শেখ হাসিনার ওপর বোমা ও গ্রেনেড আক্রমণের পিছনে তারেক জিয়ার মস্তিস্ক ছিল বলেও অভিযোগ আনা হয়। ৫৯ বছরের তারেক তখন থেকেই লন্ডন প্রবাসী। ২০১৮ সালে তিনি বি এন পির কার্যকরী চেয়ারম্যান হন। বিবিসি বাংলার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে তারেক রহমান জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জ তাঁকে ডাকে। তিনি রাজনীতির যাবতীয় খবর রাখেন এবং তাঁর দল বি এন পি যে তাঁর নির্দেশিত পথে চলছে তাও তিনি জানান। তারেক রহমান এর নির্বাচনের আগে দেশে ফেরা যদি নিশ্চিত হয় তাহলে এবার ভোটে কি বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের লড়াই দেখা যাবে? শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এখন আমেরিকা প্রবাসী। ঠিক তারেক জিয়ার মতোই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে বি এন পি। আর্থিক তছরূপের বহু মামলায় জয় অভিযুক্ত। তারেক রহমানের মতোই ছোট বয়সে সে রাজনীতির সঙ্গে সংযুক্ত হয়।শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্পের সেই প্রধান ছিল। তবে, ৫৯ বছরের তারেক এর দেশে ফেরাটা যতটা সহজ, সজীব ওয়াজেদ জয় এর পক্ষে ততটা নয়। তার বয়স এখন ৫৪। আমেরিকায় আছে প্রায় দীর্ঘ দু দশক। শেখ হাসিনা নির্বাচনে লড়ার অনুমতি পেলে ( যা এখন কল্পনার অতীত ) তবে জয় যে তাঁর সেনাপতি হবেন তা নিশ্চিত। অতএব বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল এর রাজনীতি এখন খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার উত্তরাধিকারের ওপর নাস্ত, তাতে আর সন্দেহ কি! তবে সেনাপ্রধান ওয়াকার যে তলে তলে জল মেপে চলেছেন ভারতে বৈঠকে আসার প্রসঙ্গেই তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। এখন দেখার বিষয় ইউনুস মিয়াকে বিদায় জানিয়ে বাংলাদেশের সিংহাসনে হাসিনা নাকি তারেক! সেনাপ্রধান কাকে বসানোর ছক কষে রেখেছেন তা সময়ই বলে দেবে।।












Discussion about this post