সংবাদের শিরোনাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা তুলে ধরে যাক। প্রথমটি বাংলাদেশকে নিয়ে। সম্প্রতি এক আদিবাসী কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি তপ্ত হয়ে ওঠে। তদারকি সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী এর জন্য ভারতকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনার পিছেন ভারতের উস্কানি রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের তোলা অভিযোগ ভারত শুধু উড়িয়ে দেয়নি। কড়া জবাব দিয়েছে। সেটা এতটাই কড়া যে আগামীদিনে ভারতের দিকে আঙুল তুলতে গেলে বাংলাদেশকে ভাবতে হবে।
খাগড়াছড়ির ঘটনায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের জবাব ছিল, ‘আমরা পরিষ্কার ভাষায় এই ধরনের ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ খারিজ করছি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে চূড়ান্ত ব্যর্থ। তাই, সেই দায় অন্যের ওপর চাপানো তাদের অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে। এসব না করে বাংলাদেশ সরকার আত্মনিরীক্ষণ করুক। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয় কট্টরপন্থীরা যেভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিশানা বানিয়ে হিংসা, অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলের ঘটনা ঘটিয়েছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। ’
এবার দ্বিতীয় ঘটনা। পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে কার্যত চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের স্থলসেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। ইসলামাবাদের জন্য তাঁর বার্তা – পাকিস্তান যদি চায় মানচিত্রে থাকতে, তাহলে তারা সন্ত্রাসের মদত দেওয়া বন্ধ করুক। সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ না করলে পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়া হবে। সে দেশকে সেনাপ্রধানের বার্তা ‘ভারত এবার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আর এবার অপারেশন সিঁদুর ১.০- এর সময়ে যে সংযম দেখিয়েছিলাম তা দেখাব না। এবার আমরা এক ধাপ এগিয়ে যাব এবং এমনভাবে কাজ করব যা পাকিস্তানকে ভাবতে বাধ্য করবে যে তারা বিশ্ব মানচিত্রে থাকতে চায় কি না।’ নিজের বাহিনীর জন্য দিয়েছে বার্তা। বলেছেন, নিজেদের প্রস্তুত রাখুন। ঈশ্বর চাইলে সুযোগ শীঘ্রই আসবে।
প্রশ্ন উঠছে, এই বার্তা কি শুধু পাকিস্তানের জন্য? নাকি ঘুরিয়ে বাংলাদেশকেও বার্তা দিলেন? এই প্রতিবেদন তা নিয়েই। খাগড়াছড়ির ঘটনায় নিয়ে প্রথমে আলোকপাত করা যাক। ভারতের বিদেশমন্ত্রক বাংলাদেশকে যে বার্তা দিয়েছে, সেটা কিন্তু সরাসরি তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। বিদেশমন্ত্রক তদারকি সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীর বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলেই থেমে যেতে পারতেন। সেটা না করে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে চূড়ান্ত ব্যর্থ। তাই, সেই দায় অন্যের ওপর চাপানো তাদের অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে। এসব না করে বাংলাদেশ সরকার আত্মনিরীক্ষণ করুক। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয় কট্টরপন্থীরা যেভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিশানা বানিয়ে হিংসা, অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলের ঘটনা ঘটিয়েছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। ’
দ্বিতীয়টি ভারতীয় সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি। এই বিষয়ে বিশ্লেষণ করতে হলে ভারতের মানচিত্রের দিকে একবার তাকিয়ে দেখা যাক। পূর্বসীমান্তে বাংলাদেশ, পশ্চিম সীমান্তে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আইএসআইয়ের তৎপরতা নিয়ে দিল্লি একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামি জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে। আগামীদিনে সে দেশের মাটি থেকে ভারত বিরোধী কোনও কার্যকলাপ সংঘটিত হলে দিল্লি যে হাতে গুটিয়ে বসে থাকবে না, সেই বার্তাই আগাম দিয়ে রাখলেন। ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক হার্দিক। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে ঢাকা থেকে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ সংগঠিত হলে দিল্লি চুপ করে বসে থাকবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post