নাট্যকার বাদল সরকার তাঁর ত্রিংশ শতাব্দী নাটকে লিখেছেন – ‘ভয়ে মানুষের বুদ্ধি লোপ পায়, ভয়ে মানুষের চেতনা জাগে। পৃথিবীর আদিমতম অনুভূতি এই ভয় মানুষকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ’
টাটকা উদাহরণ মহম্মদ ইউনূস। একটা নয়, একাধিক ভয় তাঁকে তাড়া করছে। গদি হারানোর ভয়, হাসিনার ফেরার ভয়। হাসিনা ক্ষমতায় ফিরলে তাঁর দশা নিয়ে ভয়। মানুষ ভয় পেলে হয় ভুল বকে, না হলে ঠিকটা বলে। জাতিসঙ্ঘের সাধরণ সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে যারপরনাই বেইজ্জত হতে হয়েছেল ইউনূস এবং তাঁর সঙ্গীসাথীদের। সেখানে থাকাকালীন তিনি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। যে সাক্ষাৎকারে ভারতের বিরুদ্ধে তিনি গাল পাড়েন। বলেন, দিল্লিতে বসে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সব নির্দেশ দিচ্ছেন, সেগুলি উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে ইউনূস অনুরোধ করেন হাসিনা যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আওয়ামী লিগকে যাতে ‘উস্কানি’ দিতে না পারে, তার জন্য দিল্লি পদক্ষেপ করুক। মোদি পত্রপাঠ প্রস্তাব খারিজ করে দেন। বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ, যে দেশে সবার মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। ইউনূস সেদিন বুঝে যান তাঁর শেষের সেদিন বড় ভয়ঙ্কর হতে চলেছে। জেনিভায় ইউনূসের বিরুদ্ধে বিরাট বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা তদারকি সরকার প্রধানকে খুনি বলে অভিহীত করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন।
ইউনূস সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাইরের কিছু শক্তির সাহায্যে হাসিনাকে ফিরতে সহায়তা করবে। আমরা সব সময় এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’ ইতিমধ্যে তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে ইউনূসের বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠক প্রসঙ্গে তারেক বলেন, ‘উনি একজন স্বনামধন্য মানুষ। অত্যন্ত বিজ্ঞ। তাঁর সঙ্গে সৌজন্যমূলক কথাবার্তা হয়েছে। উনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন জনগণ আপনাকে সুযোগ দিলে তাহলে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ’
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক বলেন, ভারত যদি স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরাগভাজন হয়, সেখানে তো আমাদের কিছু করা নেই। বিবিসির তরফ থেকে তারেক প্রশ্ন করা হয়, বিগত সরকারের সময় বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সেই সম্পর্ক ছিল সেটা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আপনাদের নীতি কী হবে?
জবাবে তারেক রহমান বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ। এখানে আপনি সুনির্দিষ্টভাবে একটি দেশের কথা বলছেন। এখানে ওই দেশ বা অন্য দেশ বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আমার কাছে আমার স্বার্থ। আমি আগে আমার দেশের স্বার্থ দেখব। দেশবাসীর স্বার্থ দেখব। ওটাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমার তরফ থেকে যা যা করণীয় সেটা করা হবে।
বিগত সরকার প্রসঙ্গে তাঁর জবাব, আমরা দেখেছি কীভাবে তারা (১/১১ সরকার) সব কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল। দেশকে একটি অন্ধকার দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। পরবর্তীতে দেখেছি খুব সম্ভবত তাদেরই আরও একটি রূপ। অন্যভাবে দেখেছি। দেখেছি ইন দ্য নেম অব ডেমোক্র্যাসি। সাক্ষাৎকারে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, বিএনপি সামনের দিকে যেতে চায়। দেশকে সামনে নিতে হবে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর এই প্রথম কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি। শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশ ভোটের সময়ে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post