পাকিস্তান আছে পাকিস্তানেই।
জাতিসঙ্ঘে কাশ্মীর ইস্যুতে, সন্ত্রাসে মদত নিয়ে ইসলামাবাদকে একাধিকবার সপাটে চড় কসিয়েছে দিল্লি। সম্প্রতি অপারেশন সিঁদুর দেখিয়ে দিয়েছে ভারত কতটা ক্ষমতা ধরে। দিন কয়েক আগে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবীদে কাটা কাটা কথায় পাকিস্তানকে বলে দিয়েছে, তারা মানচিত্রে থাকতে চাইলে সতর্ক হয়ে পা ফেলে। অপারেশন সিঁদুরে যে সংযম দেখানো হয়েছিল, তা আর আগামী দিনে দেখানো হবে না। এত হুমকি-ধমকির পরেও পাকিস্তান আছে পাকিস্তানে। সে দেশের আর্থিক অবস্থা যে ভয়াবহ তা আর নতুন করে বলা দরকার হয়নি। নতুন তথ্য হল পাকিস্তানের যৌথ স্টাফ প্রধানের দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবাস্সুম হাবিবের নেতৃত্বে পাকিস্তান সেনার
চার সদস্যে এক প্রতিনিধি দল বর্তমানে ঢাকায় রয়েছে। সোমবার তারা ঢাকা পৌঁছান। ভারতের গণমাধ্যম দ্য নর্থ ইস্ট নিউজ এই খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পাকিস্তান নৌসেনার কমোডর পদমর্যাদার এক অফিসার, সেনাবাহিনীর একজন মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (আর্মড ফোর্ড ডিভিশন)। সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, গত মাসেই পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে এই সফর নিয়ে চিঠি চালাচালি হয়েছে। এর আগেও পাকিস্তানে সেনা এবং আইএসআইয়ের এক প্রতিনিধিদল রংপুর সফর করে। এই সফর ছিল অত্যন্ত গোপন। কিন্তু ‘গোপন কথাটি রবে না গোপনে, উঠিল ফুটিয়া নীরব নয়নে। ’ সেই সফর ফাঁস হয়ে যায়। উল্লেখ করা যেতে পারে, এই রংপুরের কাছেই চিকেন নেক। এই জায়গাকে দিল্লি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবেই দেখে।
এবার এএফডি নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই এএফডি প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। নর্থ ইস্ট নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, এএফডির অপারেশন এবং পরিকল্পনা দফতর একটি চিঠি জারি করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাবিবকে আমন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেয়। সফরটিকে সদ্ভাবনামূলক সফর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতেই এই সফরের লক্ষ্য। সূত্রে খবর, লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাবিব বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে সূত্রে খবর। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
মহম্মদ ইউনূসের শাসনামলে ঢাকার সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডির ঘনিষ্ঠতা আগের থেকে অনেকটাই বেড়েছে। চলতি বছর জানুয়ারিতে বাংলাদেশের লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানের নেতৃত্বে এক সেনাবাহিনীর এক প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল। এরপর পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এক মেজরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। তারা বাংলাদেশের কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকাও পরিদর্শন করে। গত কয়েক মাসে পাকিস্তান সেনার আরও দুটি প্রতিনিধি দল গোপনে বাংলাদেশ সফর করেছে বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, ইউনূস সরকারের সময়কালে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনার সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, ঘন ঘন পাকিস্তান সেনা কেন বাংলাদেশ সফর করছে। মূল উদ্দেশ্য ভারত। কোণঠাসা পাকিস্তান চাইছে বাংলাদেশ সেনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে ভারতকে চাপে রাখা। কিন্তু তাদের এই কৌশল কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।












Discussion about this post