দিল্লির আশ্রয়ে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফের সাউথব্লক তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল। সাউথব্লক জানিয়ে দিয়েছে, বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রসঙ্গে দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে আলোচনার প্রয়োজন। এটির সঙ্গে বিচার বিভাগীয় এবং আইনি প্রক্রিয়া জড়িয়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি আইনি এবং বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার। এর জন্য দু দেশের মধ্যে আলোচনা এবং পরামর্শের প্রয়োজন। আমরা এই বিষয়গুলি নিয়ে পরীক্ষা করছি। এই বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ –আলোচনার প্রয়োজন।
ঢাকার সংবাদমাধ্যমের এক কূটনৈতিক সংবাদাতাদের প্রতিনিধিদল বর্তমানে দিল্লি সফর করছেন। তাদের সঙ্গে সোমবার সকালে দিল্লিতে মিলিত হন বিদেশ সচিব। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদল নানা বিষয়ে বিক্রম মিস্রীর সঙ্গে মত বিনিময় করছিলেন। হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের বিদেশ সচিবকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিক্রম মিস্রী বলেন, ‘আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, এটি একটি একটি বিচারবিভাগীয় এবং আইনি প্রক্রিয়া। এর জন্য দু দেশের মধ্যে আলোচনা এবং পরামর্শের প্রয়োজন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এবং এই বিষয়গুলি নিয়ে আমরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার জন্য তৈরি। এই মুহূর্তে এর বাইরে আর কোনও মন্তব্য করা গঠনমূলক বলে আমি মনে করি না। ’
উল্লেখ করা যেতে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে দিল্লিতে আশ্রয় নেন হাসিনা। সেটা গত বছর অগাস্টে। ওই বছর ডিসেম্বের তদারকি সরকারের তরফ থেকে দিল্লিকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে ঢাকা দিল্লিকে অনুরোধ করে হাসিনার প্রত্যর্পণ। সেই সঙ্গে যমুনা ভবন থেকে সাউথ ব্লককে আরও একটি চিঠি পাঠানো হয়, সে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসিনাকে তারা বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়। তদারকি সরকার প্রধানের প্রেস সচিব সফিকূল আলমও একটি চিঠি পাঠান, সেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হোক স্বচ্ছ, সাম্য এবং সম্মানের। ’
বিক্রি মিস্রীকে প্রশ্ন করা হয়, গত বছরের যে ঘটনায় বাংলাদেশে একটি সরকারের পতন হয়েছে এবং একটা তদারকি সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়েছে, সেই সরকারের সঙ্গে দিল্লির আলোচনায় কোনও বাধা তৈরি হয়েছে। জবাবে ভারতের জবাবে বিদেশ সচিব না জানিয়ে বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ক্ষেত্রে ওই ঘটনা কোনও বাধা হয়ে ওঠেনি।
বিদেশ সচিবের প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি মহল মনে করছে, একজন আমলা হিসেবে যা বলা উচিত বিদেশ সচিব সেটুকুই বলেছেন। তিনি সরাসরি এ কথা বলেননি যে ফেরানো হবে না। আবার ফেরানো হবেই এমন কথাও স্পষ্ট করেননি। তিনি বিষয়টি আইনি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এই ব্যাখ্যা যারা দিচ্ছেন তারা আরও দাবি করছেন, ভারতের বিদেশ সচিব যা বলেছেন তাতে এটাই স্পষ্ট হয় যে শিগগিরই কিছু হচ্ছে না। কারণ আইনি এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এই এই প্রশ্নের দ্রুত মীমাংসা হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই মহল আরো মনে করছে, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত হাসিনার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে পারে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনায় খুব বেশি আগ্রহ দেখাবে না।
বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিক্রম মিস্রী। বিদেশ সচিব বলেন, ভারত চায় যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে এই নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন।












Discussion about this post