‘ছিল বিড়াল হয়ে গেল রুমাল’ অথবা ‘চন্দ্রবিন্দুর চ, বিড়ালের তালব্য-শ আর রুমালের মা – এই নিয়ে চশমা’।
সংবাদের শিরোনাম নিয়ে সবিস্তারে যাওয়ার আগে সুকুমার রায়ে বিখ্যাত শিশুসাহিত্যে এই বিখ্যাত সংলাপ উল্লেখ করতেই হচ্ছে। কারণ, ইউনূসের বিরুদ্ধে এবার পথে নামছে তুরস্ক।
খটকা লাগছে। খটকা লাগারই কথা। একদিকে হাসিনা নিয়ে দিল্লি ঢাকার তরজা চরমে, অপর দিকে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস একের পর এক ভারত বিদ্বেষী কথা বলে যাচ্ছেন। এই তপ্ত আবহে তুরস্ক গিয়েছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান। সে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়া সিম্যাল কাদিওগ্লুর আমন্ত্রণে তার এই সফর। সফরকালে হাসান মাহমুদ খান তুরস্কের বিমানবাহিনীর প্রধান, প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থার সচিব, উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন। আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যেমন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় ও প্রশিক্ষণ বিষয় সহ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে উভয়ে মত বিনিময় করবেন।
এদিকে আবার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন সে দেশের পরারাষ্ট্রসচিব এ বেরিস্ট একিনিচের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল। দুইদিনের সফরে সোমবার তিনি ঢাকায় পৌঁছান। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রকের দফতর থেকে বলা হয়েছে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক স্তরের বহু বিষয়ে মত বিনিময় করবেন।
এখন প্রশ্ন হল বাংলাদেশের অচলাবস্থার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক কোথায়। এ তো অনেকটা উড়ে এসে জুড়ে বসার মত বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আসলে ইউনূসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে হাসিনাকে আবার ক্ষমতা আসীন করার এক নীল নকশা তৈরি হয়েছে। একটা সমীকরণ তৈরি করা যাক। সেনাপ্রধান ওয়াকার আসছেন ভারতে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ গিয়েছেন তুরস্কে। ওদিকে দিল্লিতে রয়েছেন হাসিনা এবং বাংলাদেশ সেনার সঙ্গে ইউনূসের সম্পর্ক এখন আদায় কাঁচকলায়। আশা করা যায় ‘চন্দ্রবিন্দুর চ, বিড়ালের তালব্য-শ আর রুমালের মা দিয়ে চশমা কীভাবে হল।
এই ঘটনাপ্রবাহ এমন একটা সময় যখন সাউথব্লক জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হবে। একই দাবি আমেরিকারও। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও ঢাকাকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া চলছে। ফলে, ইউনূসের অবস্থা বেগুনের ভর্তার মতো। এদিকে, ইউনূস আবার সব কিছুর পিছনে ভারতের চাল দেখছেন। কিন্তু ইউনূস হয় বুঝতে পারছেন না বা বুঝলেও তাঁর কিছু করার নেই। সেই বোঝা না বোঝার বিষয়টি হল ওয়াকার উজ জামান এখন আর তার বিশ্বাসভাজন নয়। ভারতে তাঁর আসা নিয়ে সরকারিভাবে এখনও সে দেশ কিছু জানায়নি। কিন্ত তিনি আসছেন, বলা ভাল আসতে বাধ্য। বাধ্য করেছে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ।
এদিকে, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন এ এম এস নাসিরউদ্দিন জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনকে তিনি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাবেন। মঙ্গলবার সকালে সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুরু হওয়া নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে
নির্বাচন কমিশনের সূচনায় সিইসি এই কথা বলেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, কমিশন এর মধ্যে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। নির্বাচন কমিশনের যে সব কর্মচারী আছেন, তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করতে চান। কমিশনার বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর সাড়ে ২১ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ৪৫ লক্ষ যোগ্য ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।












Discussion about this post