ফের আকাশে গায়ে টক্ টক্ গন্ধ
গন্ধ পেয়েছেন বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। এবার গন্ধ অসুরের মুখে দাড়ি নিয়ে। বাংলাদেশের প্রায় ৮ শো মণ্ডপের দুর্গা প্রতিমায় অসুরের মুখে দাড়ি রাখার ঘটনায় তিনি এবং তার ‘সরকারি বন্ধুরা’ ভারতের হাত দেখছেন। নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার তাঁর দপ্তরে কোর কমিটির বৈঠক বসে। সেই বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী জানান, সংখ্যালঘুদের বৃহত্তম উৎসবের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমায় অসুরের মুখে দাঁড়ি লাগানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তবে এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা চৌধুরী বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করা এবং দুর্গোপুজোর মণ্ডপে অসুরের মুখে দাড়ি লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ নষ্টের চক্রান্ত হয়েছে। এই চক্রান্তের পিছনে ফ্যাসিস্টের দোসরদের মদত রয়েছে। এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। উপদেষ্টা একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, ‘একটি পার্শ্ববর্তী দেশ দুর্গোপুজোর মূর্তি তৈরির সময় প্রধান উপদেষ্টাকে যে ভাবে নিন্দনীয় উপস্থাপনের সংবাদ পাওয়া গিয়েছে, তার সঙ্গে অসুরের মুখে দাড়ি বসিয়ে দেওয়ার কাজটির যোগসূত্র দেখা যাচ্ছে। তবে গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নজরদারি ও দুর্গাপুজোর জন্য গঠিত কমিটির সহযোগিতায় কুচক্রীদের চক্রান্ত সরকার নস্যাৎ করতে সমর্থ হয়েছে। ’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, ফ্যাসিস্ট এবং তাদের সহযোগীরা কয়েকটি পুজো মণ্ডপে অসুরের মুখে দাড়ি লাগিয়ে ধর্মীয় বিভেদ, সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং সহিংসতার বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা করছিল। এই ঘটনায় ফ্যাসিস্ট বুদ্ধিজীবীদের ইন্ধন ছিল। কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। গতবারের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বিঘ্নে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপুজো শেষ হয়েছে। ষড়যন্ত্রী পুজো কমিটিগুলির বিরুদ্ধে পুলিশ ডায়েরি করে তদন্ত শুরু করেছে।
যদিও উপদেষ্টার মন্তব্যে নেটপাড়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, বাংলাদেশে দূর্গা প্রতিমা তৈরির কোনও গাইডলাইন নেই। এই প্রথম কোনও মণ্ডপে অসুরের মুখে দাড়ি রাখা হয়েছে, তাও নয়। প্রতি বছর কোনও কমিটি অসুরের মুখে দাড়ি রাখে কোনও কমিটি রাখে না।
হঠাৎ করে ইউনূস সরকার ও তাঁর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই বিষয়ে ‘ভারতের চক্রান্ত’ বলে অভিযোগ তুলেছে, তা স্পষ্ট নয়। একাংশের বক্তব্য, অসুরের মুখে চাপ দাড়ি রাখা হয়, তার সঙ্গে ধর্মের বিশেষ কোনও যোগ নেই। তা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির সাম্প্রদায়িক অশান্তির সঙ্গে বিষয়টি কেন যোগ করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এক নেটিজেনের বক্তব্য, এবার কি ইউনূস রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের দাড়ি কামিয়ে ফেলবেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রসঙ্গ ওঠে। এই বিষয়ে জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বলেন, যে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে এত তুলকালাম, সে ঘটনার মেডিকেল প্রতিবেদনে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পাহাড়ি-বাঙালির সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। পার্বত্য জেলায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তুলে নেওয়া হয়েছে ১৪৪ ধারা। ভারত কিন্তু খাগড়াছড়ির ঘটনা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবনতি হয়েছে। আর ঢাকার এটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, কোনও অঘটন ঘটলেই ভারতকে কাঠগডায় তোলা। বাংলাদেশ ভারতকে কাঠগড়ায় না তুলে আত্মনিরীক্ষণ করুক।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post