বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান পড়েছেন মহা দুর্বিসহে। বাংলাদেশ সফরে এক উচ্চ পর্যায়ের পাকিস্তানি সেনার অফিসারদের দল চারদিনের বাংলাদেশ সফরে ঢাকায় আসছেন। পাকিস্তানের যৌথ স্টাফ প্রধানের দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবাস্সুম হায়দার যিনি এর আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৪ তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের কমান্ডার ছিলেন তার নেতৃত্বে পাকিস্তান সেনার চার সদস্যের এই প্রতিনিধি দল বর্তমানে ঢাকায় রয়েছে। সোমবার তারা ঢাকা পৌঁছান। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পাকিস্তান নৌসেনার কমোডর পদমর্যাদার এক অফিসার, সেনাবাহিনীর একজন মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা। সূত্রে খবর, ঢাকায় লালগালিচা সম্বর্ধনা দেওয়া হবে তাদের। বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও অঞ্চল পরিদর্শন করবেন তারা। আইএসপিআর পুরো সফর সূচি দেয়নি। যা থেকে গোপন করে রাখা হচ্ছে বেশ কিছু খবর। ভারত পাকিস্তানের সাম্প্রতিক যুদ্ধ অপারেশন সিঁদুরের পর যখন জোড় চির ধরেছে দুই দেশের মধ্যে তখন পাকিস্তানের সামরিক কর্তাদের এই বাংলাদেশ সফরে ধরে নেওয়া যাচ্ছে যে এই সফরে ভারতের জন্য স্বস্তির হবেনা। ভারতকে চাপে ফেলার যথেষ্ট কারণ এই সফরে থাকতে পারে। পাকিস্তানের তরফে থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে যুদ্ধ শুরু করার হুঙ্কার একাধিকবার দেওয়া হয়েছে। তার সাথে তাল মেলাচ্ছে বাংলাদেশও। বাংলাদেশের উপদেষ্টা সহ বেশকিছু কর্মকর্তা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার হুমকি দিয়েছে। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের জামায়েতের দ্বিতীয় সর্ব্বোচ্চ নেতা ডাক্তার তাহের ৫০ লক্ষ্য যুব সেনা নিয়ে ভারত আক্রমণের যে পরিকল্পনা করেছেন তাতে বাংলাদেশে পাকিস্তানি এই কর্তাদের সফর অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সফরে তারা শিলিগুড়ি করিডোরে সন্নিহিত অঞ্চল ও মিয়ানমারের সীমান্ত অঞ্চল পরিদর্শনে যাবেন। পাশাপাশি যুদ্ধের পরিস্থিতিতে দুই দেশের সেনা শত্রুর মোকাবিলা করবে তা নিয়েও উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সেনা কর্তাদের মধ্যে। ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সেনা কর্তাদের বাংলাদেশ সফর ভারত বাংলাদেশের মাঝে যে বড়ো ফাটল ধরাবে তা ইতিমধ্যেই বুঝে গেছেন বাংলাদেশের সেনা প্রধান ওয়াকার উজ্জামান। তাই তিনি এই সফরের ত্রিব্র বিরোধিতা করেন। কিন্তু এরপরেও সেনার যে জামায়াত পন্থি এবং মহম্মদ ইউনূসের চাপে পরে এই সফরটি চূড়ান্ত করা হয়।
নয়া দিল্লিতে ৩০ টি দেশের সেনাকর্তাদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের সেনা প্রধান ওয়াকার উজ্জামানের। কিন্তু তাকে এই অধিবেশনে যেতে দেওয়া হচ্ছেনা। পাকিস্তানি কর্তাদের এই সফর আটকাতে তিনি যখন সম্পূর্ণ ব্যর্থ তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানি কর্তাদের এই সফর থেকে তিনি নিজেকে আলাদা রাখবেন। কিন্তু এতেও নিস্তার মেলেনি ওয়াকার উজ্জামানের। সেনাবাহিনীর জামায়েত পন্থীরা লেফট্যানেন্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানের নেতৃত্বে চরম ব্যবস্থা নিতে চলেছে। কিন্তু সেই চরম ব্যবস্থাটি কি? দুটো ব্যবস্থা হতে পারে যেমন অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ওয়াকার উজ্জামানকে বন্দি করা এবং অপরটি রাষ্ট্রপতিকে চাপ দিয়ে ওয়াকার উজ্জামানকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে তার বিকল্প হিসেবে নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগ করা। এমনটাও আবার হতে পারে যে এই চাপ নিতে না পেরে ওয়াকার উজ্জামান নিজের ইচ্ছাই পদত্যাগ করবে।
সূত্রের খবর, ওয়াকার উজ্জামানের বিশ্বস্ত কয়েকজন অফিসার অবসর গ্রহণ করার ফলে তার কাজে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে যার ফলে তিনি সেনাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে ভারত বিরোধিতার প্রকাশ্য বিরোধিতাও করতে পারছেন জেনারেল ওয়াকার উজ্জামান। ফলে পাকিস্তানি কর্তাদের বাংলাদেশ সফরের যে অন্য মতলব আছে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। রাষ্ট্রপ্রতি ড্রোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের সরকারকে কিছু না বললেও পাকিস্তানকে সবরকম সহায়তা করতে প্রস্তুত।












Discussion about this post