ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে ক্ষমতাচ্যূত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রাক্তন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করলেন তিন দেশের তিন রাষ্ট্রদূত। এরা হলেন নরওয়ের অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন, সুইডেনের রাষ্ট্রূদত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মলার। নরওয়ে, সুইডেন এবং ডেনমার্ক এই তিন দেশ স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ, যারা বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অংশীদার। বৈঠক হয়েছে সাবের হোসেন চৌধুরীর বাড়িতে। বৈঠক হয়েছে অত্যন্ত গোপনে। খবর দিয়েছে কালবেলা। বৈঠক শুরু হয় বেলা তিনটে নাগাদ, চলে প্রায় দুই ঘণ্টা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এরা এসেছিলেন একটি গাড়িতে। সাধারণভাবে কূটনীতিকদের গাড়িতে সেই দেশের এবং যে দেশে তারা বসবাস করছেন সেই দেশে জাতীয় পতাকার রেপ্লিকা গাড়ির সামনে থাকে। কিন্তু এই তিন কূটনীতিক যে গাড়ি করে এসেছিলেন, সেই গাড়িতে কোনও পতাকা ছিল না। নজর এড়াতে তারা বৈঠক শেষে সাবের হোসেনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করেন।
গত বছর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গ্রেপ্তার হন সাবের হোসেন চৌধুরী। পরে তিনি জামিন পান। গত ১১ মে সন্ধ্যায় তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে কালবেলা জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যক্রম কীভাবে ফিরে আসতে পারে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন এই গোপনীয়তা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে তিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতার বাতাবরণের মধ্যে। গত অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীকালে দলের কয়েক হাজার কর্মী গ্রেফতার হন। এমনকী দলের বেশ কয়েকজন কর্মীকে খুন করা হয়েছে বলেও আওয়ামী লীগের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। সাবের হোসেন চৌধুরীকে তাঁর বাড়ি থেকে অক্টোবরে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা সহ ছটি মামলা রুজু হয়েছে। আওয়ামী লীগের বহু নেতা বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন।
সোমবারের বৈঠক প্রসঙ্গে কালবেলা জানিয়েছে, নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা আছে কি না, সে বিষয়ে ওই তিন দেশের রাষ্ট্রদূতেরা সাবের হোসেন চৌধুরীর কাছে জানতে চান। অতীতে যেভাবে দলটি যে ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করত, সেই ধরনের কর্মসূচির কোনও পরিকল্পনা তাদের আছে কি না, সে ব্যাপারেও সাবের হোসেন চৌধুরীর কাছে জানতে চান। ওই তিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আওয়ামী লীগের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে এমন সদস্যরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাদের কোনও আপত্তি নেই বলে তারা জানিয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, এর ফলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পুরোপুরি বজায় থাকবে। আওয়ামী লীগ তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, দেশের প্রয়োজনে তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মানসিক দিক থেকে প্রস্তুত। কিন্তু তার জন্য দরকার একটি নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের, যারা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনী পদক্ষেপ করবে। তবে সরকারিভাবে কোনও তরফ থেকেই ওই গোপন বৈঠকের অ্যাজেন্ডা নিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post