শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ ছিল ভারতের অবিচ্ছেদ্য বন্ধু। কিন্তু ইউনূসের আমলে বন্ধু বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে বলাই যায়। ভারতের বদলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন বেছে নিয়েছে ভারতেরই শত্রু পাকিস্তানকে। কিন্তু ঢাকা-ইসলামাবাদের এই গলায় গলায় সম্পর্কের মধ্যেই অপারেশন সিঁদুরের দ্বিতীয় পর্যায়ের আশঙ্কার জন্ম হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করছেন, খুব শীঘ্রই অপারেশন সিঁদুর ২.০ শুরু করতে পারে ভারত। ঠিক এই আবহেই ঢাকায় পৌঁছে গেল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চার উচ্চ পদস্থ কর্তা।
জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ৬ জন সেনাকর্তার একটি প্রতিনিধি দল ছয় দিনের পাকিস্তান সফর সেরে শনিবারই ঢাকায় ফিরেছে। এরপর পাকিস্তানের চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের সেনার প্রতিনিধি দল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছেছে। শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের অধীনে থাকা বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবাসসুম হাবিবকে লাল গালিচায় অভ্যর্থনা জানায়। রাওয়ালপিন্ডির কাছে চাকলালায় জয়েন্ট স্টাফের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবাসসুম হাবিব ঢাকায় অবস্থানকারী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করবেন। তিনিই পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাবিনীর সংযোগ রক্ষাকারী আধিকারিক হিসেবে থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এটা প্রথমবার নয়। বিগত এক বছরে বহুবার পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সেনাকর্তারা একে অপরের দেশে সফর করেছেন। যেমন, এর আগে, জানুয়ারিতে, পাকিস্তান আইএসআই-এর মেজর জেনারেল শহীদ আমির আফসার এবং মেজর জেনারেল আলম আমির আওয়ান বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। এর পর জুন মাসে ঢাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তিনজন ব্রিগেডিয়ারের রহস্যময় উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। যাদের কক্সবাজার জেলার রামুতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দশম পদাতিক ডিভিশনের সদর দফতর পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আরও তিনজন মেজর জেনারেল ঢাকায় ছিলেন, যদিও তাদের সফরের বিবরণ এবং তারা কাদের সাথে দেখা করেছিলেন তা অত্যন্ত গোপন রেখেছিল ঢাকা ও ইসলামাবাদ।
তবে এবার বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ পাকিস্তানের অতিথি লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাবিবকে স্বাগত জানানোর সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। তাঁকে রাখা হচ্ছে এক পাঁচতারা হোটেলে। মঙ্গলবার তাঁকে সেনা কুঞ্জোতে তাকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাবিবকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে তিনি জেনারেল ওয়াকের-উজ-জামানের সাথেও দেখা করবেন। এও জানা যাচ্ছে পাক সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনী সদর দফতর পরিদর্শন করানো হবে। পাশাপাশি ৮ অক্টোবর, লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাবিব কক্সবাজার যাবেন। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে বড় কোনও পরিকল্পনা রয়েছে ঢাকা ও ইসলামাবাদের।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান টের পেয়েছে ভারত অপারেশন সিঁদুরের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করতে চলেছে। সেই মতো তাঁরাও প্রস্তুতি শুরু করেছে। কচ্ছের রানের কাছাকাছি স্যার ক্রিকে যেমন সৈন্য সমাহার করছে পাকিস্তান। তেমনই বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করেও যাতে ভারতে আক্রমণ শানানো যায় সেটাও তাঁরা খতিয়ে দেখছেন। আর এই ব্যাপারে পাকিস্তানকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশের ইউনূস সরকার। যদিও ভারত এই বিষয়ে পুরোপুরি তৈরি। সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠিত এক সেনা সম্মেলনে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই ইস্টার্ণ কমান্ডকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়ে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি।












Discussion about this post