ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস বিরোধী দুটি সেমিনার। বিভিন্ন দেশের সেনাপ্রধানরা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান সম্ভবত দিল্লিতে আসছেন সেই কারণেই। ভারতের নয়া দিল্লিতেই রয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এই কারণেই তিনি নয়াদিল্লিতে আশা ছাড়তে পারছেন না। একসাথে রথ দেখা এবং কলা বেচা দুই ই করতে চাইছেন সেনাপ্রধান।দেশের তদারকি সরকার, সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং সর্বপরি বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি বিশ্বাসযোগ্য থাকতে চান তাই তাঁর এই দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্ত।উল্লেখযোগ্য যে এই সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান ৫ অগাস্ট গণ ভবন এ গিয়ে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। আবার এই ওয়াকার-উজ-জামান যখন হাসিনা দেশ ত্যাগের জন্য বিমানে উঠছেন তখন তাঁকে ফোন করে বলেন — আমার ওপর আস্থা রাখতে পারলেন না? মুহাম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে তাঁর মত পার্থক্যর কথা কারোর অজানা নেই। মুহাম্মদ ইউনূসের ডাকা একটি বৈঠকও তিনি এড়িয়ে গেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারতের কাল্পনিক আক্রমণের বিষয়ে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি নিয়ে তিনি একটি শব্দও ব্যায় না করাতে তাঁর সম্পর্কে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে বাংলাদেশে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া নিগুর বলে তিনি এই সন্দেহের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশে ইসক্লুসিভ নির্বাচন তিনি চাইছেন বাংলাদেশে। অর্থাৎ সব দলের অংশগ্রহণের পর গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত একটি সরকার। এই সরকার নির্বাচিত হলেই সেনারা সব ছাউনিতে ফিরে যাবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তার বিরোধ একটি জায়গায়। আন্তর্জাতিক বিচার ট্রাইবুনাল এ আওয়ামী লিগ এবং শেখ হাসিনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লিগ এর রাজনৈতিক কার্যকলাপ এর ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করেছে তদারকি সরকার। অর্থাৎ তাদের নির্বাচন এ অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, নেই বললেই চলে। সেনাপ্রধান চান নির্বাচনে সব দলের অংশ গ্রহণ। বাংলাদেশে একটি কথা খুব প্রচলিত হয়েছে যে ওয়াকার-উজ-জামান কি আওয়ামী লিগ এবং শেখ হাসিনার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন? ওয়াকার-উজ-জামানের বয়স এখন ৫৯।তিনি শেখ হাসিনার আমলে একটির পর একটি পদোন্নতির মাধ্যমে ১১ জুন ২০২৪ তারিখে জেনারেল সফিউদ্দিন আহমেদ এর জায়গায় বাংলাদেশের সেনাপ্রধান এর পদে অভিসিক্ত হন। এর দুমাসের মধ্যে পালা বদল এর পালা। গণ বিক্ষোভ এ হাসিনা ইস্তফা দেন ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় নেন। শাহানাজ কমলিকার স্বামী জেনারেল ওয়াকার। এই কমলিকা আবার শেখ হাসিনার আত্মীয়। দুই কন্যা সন্তানের পিতা, উচ্চাকাঙ্খী ওয়াকার কি স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের কান্ডারি হওয়ার! রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেনা। তাই সম্ভবত ওয়াকার-উজ-জামান শ্যাম এবং কুল দুই রক্ষায় সচেতন!
এখন দেখার বিষয় সেনাপ্রধানের গোপন ক্রিয়া-কলাপে কতটা গুরুত্ব দিয়ে চলছেন আওয়ামী লীগ ও সুপ্রিমো শেখ হাসিনা। আগামী নির্বাচনের আগেই দুধ কা দুধ-পানি কা পানি সবই ফায়সালা জনসমক্ষে বাংলাদেশের জনতার সামনে প্রকাশ পেয়ে যাবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post